প্রশ্ন ও উত্তর

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব-১৯)

প্রশ্ন-১। রিব ভাজক টিস্যু কাকে বলে?

উত্তরঃ যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলাে একটি তলে বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলাে রৈখিক ভাবে এক সারিতে অবস্থান করে এবং দেখতে বুকের পাঁজরের মতাে দেখায় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। যেমন বর্ধিষ্ণু জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু।

প্রশ্ন-২। যৌন জনন কাকে বলে?

উত্তরঃ যে জনন প্রক্রিয়ায় গ্যামেট উৎপন্ন হয় এবং দুটি যৌন জনন কোষ অর্থাৎ পুং গ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলন বা নিষেকের মাধ্যমে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তাকে যৌন জনন বলে। ব্যাঙ, মানুষ প্রভৃতি প্রাণী ও সপুষ্পক উদ্ভিদ যৌন জনন প্রক্রিয়ায় অপত্য জীব সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন-৩। পরিবহন টিস্যু কি?

উত্তরঃ পরিবহন টিস্যু হচ্ছে এক ধরনের টিস্যু যা খাদ্য উপাদান ও তৈরিকৃত খাদ্য পরিবহন করে। উদ্ভিদে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু এ পরিবহনের কাজ করে। তাই জাইলেম ও ফ্লোয়েমকে একসাথে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলা হয়।

প্রশ্ন-৪। বায়ুপরাগী ফুল কাকে বলে? বায়ুপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য

উত্তরঃ বায়ুর মাধ্যমে যেসব ফুলে পরাগায়ন ঘটে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। বায়ুপরাগী ফুলগুলো হালকা ধরনের হয়। এ ফুলে মধুগ্রন্থি থাকে না এবং গর্ভমুন্ড আঠালো প্রকৃতির।

প্রশ্ন-৫। মেনোপজ কাকে বলে?

উত্তরঃ মেয়েদের ঋতুস্রাব চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মেনোপজ বলে। সাধারণত মেয়েদের চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত ঋতুস্রাব চলতে থাকে। তারপর চিরদিনের জন্য ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়।

প্রশ্ন-৬। অ্যানাইসোগ্যামাস জনন কাকে বলে?

উত্তরঃ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিশিষ্ট ভিন্নধর্মী গ্যামেটের মিলনে যে যৌন জনন সম্পন্ন হয় তাকে অ্যানাইসোগ্যামাস জনন বলে। প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত উদ্ভিদসমূহের ক্ষেত্রে অ্যানাইসোগ্যামাস পদ্ধতিতে যৌন জনন সম্পন্ন হয়।

প্রশ্ন-৭। জাইগোট কি?

উত্তরঃ নিষেকের সময় শুক্রাণু সক্রিয়ভাবে ডিম্বাণুতে প্রবেশ করলে নিউক্লিয়াস দুটি একীভূত হয়ে যে কোষ উৎপন্ন হয় তাই হলো জাইগোট।

প্রশ্ন-৮। জাইলেম টিস্যুর কাজ কি?

উত্তরঃ পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ উদ্ভিদের মূল হতে পাতা ও অন্যান্য সবুজ অঙ্গে পরিবহন করা। এছাড়া উদ্ভিদদেহকে দৃঢ়তা প্রদানসহ মূল কাঠামাে গঠন করা। পানি ও খাদ্য সঞ্চয় করাও এই টিস্যুর কাজ।

প্রশ্ন-৯। ইউরোকর্ডাটার বৈশিষ্ট্যগুলো কি কি?

উত্তরঃ ইউরোকর্ডাটার বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো–

  1. প্রাথমিক অবস্থায় এদের ফুলকা রন্ধ্র থাকে।
  2. এদের পৃষ্ঠদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ফাঁকা মেরুরজ্জু থাকে।
  3. এদের লেজ নটোকর্ড থাকে।
  4. এদের গলবিল প্রস্তুত ও অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।

প্রশ্ন-১০। যক্ষ্মা রোগ কেন হয়?

উত্তরঃ যক্ষ্মা একটি অতি পরিচিত সংক্রামক রোগ। এটি ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে সংক্রমিত হয়। যারা অনেক বেশি পরিশ্রম করে, শারীরিকভাবে দুর্বল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে এবং অপুষ্টিতে ভোগে তারা এই রোগের শিকার হয়। তাছাড়া যেহেতু এটি একটি সংক্রামক রোগ তাই রোগীর সংস্পর্শে থাকলেও যক্ষ্মা রোগ হয়ে থাকে।

প্রশ্ন-১১। মাকড়সা কি? মাকড়সার বৈশিষ্ট্য

উত্তরঃ মাকড়সা একটি অমেরুদণ্ডী শিকারী কীট-বিশেষ, এরা আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণী। এর আটটি সন্ধিযুক্ত পা আছে। এরা জাল তৈরি করে বাসা করে এবং কীটপতঙ্গ শিকার করে।

প্রশ্ন-১২। ব্রংকাইটিস কাকে বলে? ব্রংকাইটিস কেন হয়?

উত্তরঃ শ্বাসনালির ভেতরে আবৃত ঝিল্লিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকে ব্রংকাইটিস বলে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্যাঁতস্যাঁতে ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠাণ্ডা লাগা ও ধুমপান থেকে এ রোগ হতে পারে।

প্রশ্ন-১৩। পাখির বৈশিষ্ট্য কী কী?

উত্তরঃ দেহের মাঝ বরাবর নরম, নমনীয়, দণ্ডাকার, দৃঢ় ও অখণ্ডায়িত নটোকর্ড থাকে। গলবিল ফুলকা ছিদ্রবিশিষ্ট হয়। দেহ পালকে আবৃত, বায়ুথলী থাকায় সহজে উড়তে পারে। এদের রক্ত উষ্ণ হয়।

প্রশ্ন-১৪। টক্সিক গলগন্ড কি?

উত্তরঃ অতিমাত্রায় থাইরক্সিন নামক হরমোন নিঃসরণের কারণে যে গলগন্ড রোগ হয় তাই টক্সিক গলগন্ড। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো- হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বুক ধড়ফড় করা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও অধিক ঘাম হওয়া। রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন দ্বারা এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

প্রশ্ন-১৫। ডাইব্যাক রোগ কি? কোনটির অভাবে ডাইব্যাক রোগ হয়?

উত্তরঃ ডাইব্যাক রোগ হলো উদ্ভিদের সালফারের অভাবজনিত একটি রোগ। এ রোগ হলে কচি পাতায় ক্লোরোসিস হয়, কাণ্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয়, ফল উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়।

প্রশ্ন-১৬। কৃষ্ণমন্ডল কাকে বলে?

উত্তরঃ চোখের শ্বেতমন্ডলের ভিতরের গায়ে কালো রঙের একটি আস্তরণ থাকে যাকে কৃষ্ণমন্ডল বলে।

প্রশ্ন-১৭। সেরিব্রাম কি? সেরিব্রাম এর কাজ

উত্তরঃ দেহ সঞ্চালন তথা প্রত্যেক কাজের ও অনুভূতির কেন্দ্র হলো সেরিব্রাম। এটি মানুষের চিন্তা, চেতনা, জ্ঞান, স্মৃতি, ইচ্ছা, বাকশক্তি ও ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো উদ্দীপকের প্রতি কি ধরনের সাড়া দিবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

প্রশ্ন-১৮। থাইমাস বলতে কি বুঝায়?

উত্তরঃ থাইমাস বলতে মূলত থাইমাস গ্রন্থিকে বোঝায়। এটি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত এবং এ থেকে থাইমক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এই গ্রন্থি জনন অঙ্গের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে।

প্রশ্ন-১৯। মসৃণ পেশী কি?

উত্তরঃ মসৃণ পেশী হল অনৈচ্ছিক ডোরাকাটাহীন পেশী। এ পেশীর কোষগুলো মাকু আকৃতির এবং শাখাবিহীন। তন্তুতে অনুপ্রস্থ রেখা নেই।

প্রশ্ন-২০। করোটি কাকে বলে?

উত্তরঃ মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকা অস্থি নিয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে। ২৯টি অস্থি নিয়ে করোটি গঠিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button