প্রশ্ন ও উত্তর

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর (পর্ব-৯)

প্রশ্ন-১। রেটিনা কি?

উত্তরঃ রেটিনা হলো মেরুদন্ডী প্রাণীদের চক্ষুগোলকের পিছনের দিকে অবস্থিত স্নায়ুকোষযুক্ত একটি পাতলা স্তর। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ।

প্রশ্ন-২। আমাদের দেহে যকৃতের ভূমিকা কী?

উত্তরঃ যকৃত আমাদের দেহের অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডকে ভেঙে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে।

প্রশ্ন-৩। অক্ষিপক্ষ কি?

উত্তরঃ চোখের পাতার লোমকে অক্ষিপক্ষ (Eyelash) বলে। এরা ধুলাবালিকে চোখে প্রবেশে বাঁধা দেয়।

প্রশ্ন-৪। কোষদেহ কি?

উত্তরঃ কোষদেহ হলো নিউরনের একটি প্রধান অংশ যা প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত। এটি দেখতে গোলাকার, তারকাকার অথবা ডিম্বাকার।

প্রশ্ন-৫। এপিস্ট্যাসিস কি? এপিস্ট্যাসিস এর ফিনোটাইপ অনুপাত কত?

উত্তরঃ যদি একটি জিনের কার্যক্ষমতা অন্য একটি জিনের উপস্থিতির কারণে প্রকাশিত হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়, তবে এ প্রক্রিয়াকে এপিস্ট্যাসিস বলা হয়। এপিস্ট্যাসিসের ফিনোটাইপ অনুপাত হলো– ১২ : ৩ : ১।

প্রশ্ন-৬। ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস কী কী?

উত্তরঃ ক্যালসিয়াম আমাদের দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস হচ্ছে দুধ। তাছাড়া দুগ্ধজাত খাবার, পনির, শুঁকটি মাছ, বাদাম, শাকসবজি ও মাংসে প্রচুর ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

প্রশ্ন-৭। টক জাতীয় ফল কাটার পর পানিতে ধোয়া উচিত নয় কেন?

উত্তরঃ টক জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। আর ভিটামিন সি পানিতে দ্রবীভূত। কাজেই টক জাতীয় ফল কাটার পর তা পানিতে ধৌত করলে ফলে থাকা ভিটামিন সি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায়। ফলে ফলমূলে ভিটামিন সি কমে যায়। এজন্যই টক জাতীয় ফল কাটার পর পানিতে ধোয়া উচিত নয়।

প্রশ্ন-৮। নাইট্রোজেনের অভাবে উদ্ভিদের কী কী ক্ষতি হয়?

উত্তরঃ উদ্ভিদের নাইট্রোজেনের অভাবজনিত ক্ষতিগুলো হলো–

১. ফলন কম হয় এবং বীজ অপুষ্ট হয়;

২. গাছের পাতা ঝরে যায়;

৩. স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

প্রশ্ন-৯। মেলানিন কি? মেলানিন এর কাজ কি?

উত্তরঃ মেলানিন হলো এক প্রকার রঞ্জক পদার্থ। এটি মানুষের ত্বকের নিচে অবস্থান করে এবং মানুষের গায়ের রং নির্ধারণ করে। মেলানিন বেশি থাকলে গায়ের রং কালো হয় এবং কম পরিমাণে থাকলে গায়ের রং ফর্সা হয়।

প্রশ্ন-১০। রক্ত জমাট বাঁধে কেন?

উত্তরঃ রক্তে ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন, অনুচক্রিকা ও ক্যালসিয়াম আয়ন থাকে, যখন কোন স্থান কেটে যায় ও রক্ত গড়িয়ে পড়ে তখন ফাইব্রিনোজেন ও অন্যান্য উপাদান মিলে জালের মতো আবরণী সৃষ্টি করে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধে।

প্রশ্ন-১১। ক্লোরেলা কি?

উত্তরঃ ক্লোরেলা একটি এককোষী সবুজ শেওলা। এদের সমুদ্র, পুকুর, হৃদ ও নদীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এরা মাটিতেও জন্মে। এরা জ্যামিতিক কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নতুন কোষ সৃষ্টি করে বংশ বৃদ্ধি করে।

প্রশ্ন-১২। অর্ধভেদ্য পর্দা কাকে বলে?

উত্তরঃ যে পর্দা দিয়ে শুধু দ্রবণের দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রাব অণু চলাচল করতে পারে না, তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে।

প্রশ্ন-১৩। ব্যাপন চাপ কি?

উত্তরঃ ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয়, যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনত্বযুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রকার চাপকে ব্যাপন চাপ বলে।

প্রশ্ন-১৪। পলিথিন কোন ধরনের পর্দা ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ পলিথিন একটি অভেদ্য পর্দা। আমরা জানি, যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয় প্রকার পদার্থের অণুগুলো চলাচল করতে পারে না তাকে অভেদ্য পর্দা বলে। যেহেতু পলিথিনের মধ্য দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব অণুর কোনোটিই প্রবেশ করতে পারে না, তাই পলিথিন একটি অভেদ্য পর্দা।

প্রশ্ন-১৫। ভ্রূণস্তর কাকে বলে?

উত্তরঃ নিষেকের ফলে সৃষ্ট জাইগোট ক্রমাগত বিভক্ত হয়ে পরিস্ফুটনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি করে। ভ্রূণের যে সব কোষস্তর থেকে পরিণত প্রাণীর বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ পরিস্ফুটিত হয় সেগুলোকে ভ্রূণস্তর বলে।

প্রশ্ন-১৬। মলাস্কা (Mollusca) কি?

উত্তরঃ Mollusca প্রাণিজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্ব। প্রাণীর বর্তমান সংখ্যাগত দিক থেকে Arthropoda পর্বের পরেই এদের অবস্থান। ঝিনুক, শামুক, অক্টোপাস, সেপিয়া, ললিগো এ পর্বের পরিচিত সদস্য।

প্রশ্ন-১৭। লিথাল জিন কি?

উত্তরঃ যে সব জিন বিশেষ বিশেষ অবস্থায় জীবের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরিবর্তন সাধন করে এমনকি মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেসব জিনকে লিথাল জিন বলে।

প্রশ্ন-১৮। জীবাশ্মবিজ্ঞান কাকে বলে?

উত্তরঃ জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচিত হয় তাকে জীবাশ্মবিজ্ঞান বা প্যালিওন্টোলজি (Paleontology) বলে।

প্রশ্ন-১৯। দেহকোষ ও স্নায়ুকোষের মধ্যে পার্থক্য কি?

উত্তরঃ দেহকোষে সেন্ট্রিওল থাকে। অপরদিকে, স্নায়ুকোষে সেন্ট্রিওল থাকে না। দেহকোষ অ্যাক্সন, ডেনড্রন ও কোষদেহ নিয়ে গঠিত। আর স্নায়ুকোষ গঠিত মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি ইত্যাদি নিয়ে।

প্রশ্ন-২০। অন্তঃকঙ্কাল কি?

উত্তরঃ অন্তঃকঙ্কাল হলো প্রাণীদেহের অভ্যন্তরীণ গঠন সহায়ক কাঠামো, যা অস্তি কলা দ্বারা গঠিত। অস্থিবিন্যাস হিসেবে মানুষের অন্তঃকঙ্কালকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- করোটি, মেরুদণ্ড, উর্ধ্বাঙ্গ, নিম্নাঙ্গ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button