Facebook

ফেসবুকে যে কাজ গুলো কখনো করা ঠিক নয়

যে কাজগুলো করলে আপনার ফেসবুক হ্যাক হতে পারে

বর্তমানে প্রযুক্তির এই সময়ে আমরা বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকি তার মধ্যে অন্যতম হল ফেসবুক। বেশির ভাগ মানুষই এই ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে। আমরা কাজের ফাকে বা অবসর সময়ে ফেসবুক চালাই। তো আজ এই ফেইসবুক এ কি ধরনের ভুল গুলি করে থাকি ও কি কাজ গুলো করা ঠিক নয় তা নিয়ে আলোচনা করব।

আমরা ফেইসবুকে অনেক বন্ধু বানিয়ে থাকি, কিন্তু বাস্তবে আমাদের হয়তো এত বন্ধু নেই। আমরা যে ভুলটা করে থাকি তা হল অপরিচিত যে কাউকেই ফেইসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে থাকি বা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে থাকি, এই অপরিচিত কাউকে ফ্রেন্ড লিস্টে আনা মানে আমাদের বিপদকেও আনার সমতুল্য হয়ে যায় অনেক সময়। অনেক সময় হ্যাকার বা অসৎ উদ্দেশ্যকারীরাও ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে থাকে যাতে করে তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে। ফেইসবুকে ফ্রেন্ড বানানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের পরিচিত মানুষদেরই ফ্রেন্ড করা উচিত এবং অপরিচিত মানুষদের এরিয়ে চলা উচিত। কারন আমরা কেউ জানি না কে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে ঘুরছে।এই সম্পর্কে অনেক নিউজ প্রমান আছে এই অপরিচিতদের বন্ধু বানিয়ে মানুষের কতকি ক্ষতি হয়েছে।

 

ফেইসবুকে আপনার ব্যক্তিগত ইনফরমেশন দেওয়া ঠিক নয়। যেমন- আপনি কোথায় চাকরী করেন বা বাসার ঠিকানা, অফিসের ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার এ যাতীয় তথ্য না দেওয়াই ভাল কারন আপনি যখন এসব তথ্য দিবেন তখন হ্যাকাররা বা অসৎ উদ্দেশ্যকারী আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে।

আপনি যদি কোন নতুন গাড়ী ক্রয় করেন বা কোন পুরস্কার জিতেন এসবের পোষ্ট করাও ঠিক নয় কারন এসব থেকেই উদ্দেশ্যকারীরা আকর্ষীক হয়ে থাকে।

আরো বড় কথা হলো আপনার সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, ডিগ্রী দারী ডকুমেন্ট পোষ্ট করা ঠিক নয় এগুলোও আপনার কোন কাজে আসবে না বরং ক্ষতিই হবে বেশি।

ড্রিঙ্ক করে আমাদের যেমন গাড়ী চালানো উচিত নয় ঠিক তেমনি ফেইসবুক চালানোও ঠিক নয়। ড্রাঙ্ক অবস্থায় যখন আপনি পোষ্ট বা মেসেজ দিন তখন আপনার পারসনালালিটি বা ব্যক্তিত্বই নষ্ট হয়।

ফেইসবুকে পারতপক্ষে ট্যাগ করা ঠিক নয় কারণ বেশির ভাগ মানুষই এই ট্যাগ করাটাকে ভাল মনে করে না। সে ক্ষেত্রে আপনার এই ট্যাগ এর কারনে অনেক আপনজনও আপনার প্রতি বিরক্ত হতে পারে।

ফেইসবুকে কাউকে গালি দেওয়া ঠিক নয়। কারন মানুষ আপনাকে আপনার পোষ্ট কমেন্ট এগুলোর উপর বিবেচনা করে থাকে। আপনি যখন কাউকে গালি দেন তখন আপনার অবস্থান ব্যক্তিত্ব আপনার চরিত্র এ সব কিছুই নষ্ট হয় এবং অন্যরা আপনাকে হিসেব করে ফেলে আপনি কোন ধরনের ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লোক।

 

কোন কিছুই যেমন বেশি বেশি ভাল না ঠিক তেমনি ফেইসবুক চালানোর সময়ও এ খেয়াল রাখা উচিত আমাদের, যেন কোন কিছুই বেশি বেশি না হয়ে যায়, যেমন- অনেকক্ষন ফেইসবুক না চালানো বা বেশি বেশি পোষ্ট না করা। অনেকক্ষন ফেইসবুক চালালে মানুষ বুঝে যায় আপনি কোন কাজই করেন না সেক্ষেত্রে আপনার পারসোনালিটি মানুষের কাছে নষ্ট হয়ে যায়। একটা সময় ছিল কাজ না করলে বাবু বলা হত কিন্তু এখনকার সময় কাজ না করে বসে থাকলে মানুষ ওই লোককে হিসেব করে কথাই বলতে চায় না। এখন বেশিরভাগ মানুষই যে সমালোচনাটা করে থাকে তা হল অনেকের উপরই বিরক্তভোধ করে এই কারনে যে তারা ফেইসবুকে বেশি বেশি পোষ্ট করে, যদিও আপনজন হওয়াতে অনেকেই কিছু না বলেই থাকে কিন্তু বিতরে বিতরে আপনাকে এরিয়ে চলে।দেখবেন যে লোকটি বেশি বেশি পোষ্ট করে পোস্ট ধরন এরকম এখন ঘুরতে যাচ্ছি, এখন খাচ্ছি, এখন আসলাম, এখন দেখছি, এটা পেলাম, একটুর জন্য বেচে গেলাম এরকম অনেক পোষ্ট করে থাকে এধরনের মানুষের ফ্রেন্ড থাকে অনেক বেশি কিন্তু যাচাই করে দেখবেন তাদের পোষ্ট ফলো করে খুব কমজনই তার মানে হলো তাদেরকে মানুষ এরিয়ে চলতে চায়। ফেইসবুকে ইবাদত করা থেকেও আমাদের বিরত থাকা উচিত, অনেক জনই আছে যারা ফেইসবুককেই ইবাদতের জায়গা করে নিয়েছে। যেমন- যেকোন কিছুতেই দোয়া চাওয়া, যেকোন কিছুতেই ধর্ম নিয়ে বিতর্ক করা, ধর্মের খাতিরে গালি দেওয়া। ধর্মীয় পালনীয় সময়গুলোতে যেখানে ধর্মীয় জায়গায় থাকার কথা সেখানে না গিয়ে এই ধর্মীয় পোষ্ট করা আর অপেক্ষায় থাকা কতগুলো লাইক আসলো। যেমন আমরা হজ্ব করতে যাই আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেখানে আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য থাকবে হজ্ব কার্য সম্পাদন করাই সেখানে যেন আমাদের এটা প্রকাশ না পায় যে আমরা হজ্ব করতে গিয়েছি শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্যই, মানে উদ্দেশ্য থাকবে আল্লাহর সন্তুষ্টি, উদ্দেশ্য যেন ছবি তোলা জন্যই শুধু না হয়। এসকল কাজের মাধ্যমেও আপনার ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ পায় যা মানুষ অপছন্দ করে থাকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button