Computer

কিভাবে কম্পিউটার ভাল রাখা যায়?

কম্পিউটার ভাল রাখার উপায়

কিভাবে কম্পিউটার ভাল রাখা যায় জেনে নিন ও কম্পিউটার ভাল রাখার টিপস এন্ড ট্রিকস সম্পর্কে জানুন, Computer tips & tricks bangla

আমরা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করি আমাদের কম্পিউটারটির কিভাবে যত্ন নিতে পারি ও কম্পিউটার ভাল রাখার জন্য কি কি করতে হয় তা আজকে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়লে কম্পিউটার ভাল রাখার সকল টিপস  এন্ড ট্রিকস ও কম্পিউটার ভাল রাখার সকল কৌশল সম্পর্কে জানতে পারবেন (All the tips and tricks to keep the computer good)।

 

নিম্নে কম্পিউটার ভাল রাখার উপায় ও কম্পিউটার এর যত্ন নেওয়ার কৌশল গুলো তুলে ধরা হলোঃ-

১. এক থেকে দুই মাস পর পর কম্পিউটারের সব পার্টস (Parts) গুলো খুলে তারপর মুছে নতুন করে লাগিয়ে দিন।

অথবা

* কম্পিউটারের র‌্যাম (Ram) খুলে পাতলা তুলো বা ব্রাশ অথবা কাপড় দ্বারা মুছে নতুন করে আবার লাগিয়ে নিন।

* কলিং ফ্যান খুলে ব্রাশ দিয়ে পরিস্কার করে আবার নতুন ভাবে লাগিয়ে দিন এবং কলিং ফ্যান খুলার পর প্রসেসর ও কলিং ফ্যান এর মাঝখানে পেস্ট দিয়ে লাগানো থাকে যদি দেখেন পেস্ট একদম শেষ হয়ে গেছে তাহলে পরবর্তীতে কুলিং ফ্যান লাগানোর জন্য পেস্ট দিয়ে তারপর লাগান।

 

২. কম্পিউটারের উপর ভারী কোন  কিছু রাখবেন না।

 

৩. রাতে ঘুমাবার সময় কম্পিউটার শার্টডাউন (Shut down) করে দিয়ে ঘুমাতে যান।

 

৪. কম্পিউটারের সাথে ইউপিএস ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, কারন বিদ্যুৎ চলে গেলে যেন কম্পিউটার নিজে নিজে বন্ধ না হয়ে যায় সে জন্য UPS ব্যবহার করা উচিত।

 

৫. কম্পিউটারে একটি ভাল অ্যান্টিভাইরাস (Antivirus) ব্যবহার করা উচিত। আবার কোন ভাবেই যেন দুটি এন্টিভাইরাস ইন্সটল করা না হয়, কারণ হলো দুটি এন্টিভাইরাস কম্পিউটারে ইন্সটল করা থাকলে পিসি স্লো হয়ে যায়।

 

৬. কম্পিউটারকে আলো-বাতাসপূর্ণ জায়গায় রাখার চেষ্টা করুন।

 

৭. প্রতিদিনই কম্পিউটার মুছে রাখার চেষ্টা করুন এবং বিশেষ করে LCD বা LED মনিটর একবার করে হলেও মুছে রাখার চেষ্টা করুন।

 

৮. অনেকে কম্পিউটার চলার সময়ও কম্পিউটারের উপর কাপড় বা পর্দা দিয়ে রাখে যাতে ধোলা বালু না পরে। এ কাজটি করা ঠিক নয় কারন এতে কম্পিউটারের ক্ষতিই হয়ে থাকে, লাভের চেয়ে।

 

৯. কম্পিউটারের ডেক্সটপের ওয়ালপেপার (Computer Wallpaper) হিসেবে এমন একটি ছবি সেট করুন যাতে চোখে সমস্যা না হয়, যেন চোখকে আরাম দেয়। ওয়েলপেপার যতটা সম্ভব হালকা ও ছোট সাইজের দেওয়ার চেষ্টা করুন যাতে কম্পিউটারের গতি ভাল থাকে।

 

১০. কম্পিউটার থেকে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার (Software) ইন্সটল করা থেকে বিরত থাকুন ও অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল হয়ে থাকলে আনইন্সটল করে দিন।

 

১১. প্রতি সপ্তাহে একবার করে ডিক্স ডিফ্রাগমেন্ট (Disk Defragmentation) করার চেষ্টা করুন।

 

১২. কম্পিউটারের প্রত্যেক ড্রাইভে (Computer Drive) মিনিমাম ১০  থেকে ১৫% জায়গা খালি রাখুন, এতে করে কম্পিউটারের স্পিড বাড়বে, হার্ডডিক্স ও পিসি ভাল থাকবে।

 

১৩. কম্পিউটারে ডিক্স ও পেন ড্রাইভসহ যাই ব্যবহার করুন না কেন, অবশ্যই ওপেন করার সময় এন্টিভাইরাস দিয়ে চেক করে নিতে পারেন, এতে ভাইরাস প্রবেশ করার আশংকা থাকে না।

 

১৪. কম্পিউটারে CCleaner  সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারেন। এই সফটওয়্যারটি কম্পিউটার পরিস্কার রাখার কাজ করে থাকে।

 

১৫. কম্পিউটারের সিস্টেম ড্রাইভের জায়গা বাড়াতে ও কম্পিউটার পরিস্কার রাখতে এবং কম্পিউটার ফাস্ট রাখতে নিয়মিত যে কাজ গুলো করবেন তা হলো- Start Menu গিয়ে Run এ যান বা সার্চ অপশন থেকে Run লিখে Run এ যান অথবা কিবোর্ডের উইন্ডো কি চেপে ধরে R চাপুন Run এসে পরবে, তারপর Run এর মধ্যে Temp লিখে Ok করুন, এখন যে ফাইলগুলো আসবে সেগুলো ডিলেট (Delete)  করে দিন।

তারপর আবার Run এ যান এবার %Temp% লিখে Ok করুন, এখন যে ফাইলগুলো আসবে সেগুলো ডিলেট করুন।

তারপর আবার Run এ যান এবার Prefetch লিখে Ok করুন, এখন যে ফাইলগুলো আসবে সেগুলো ডিলেট করুন।

তারপর আবার Run এ যান এবার Recent লিখে Ok করুন, এখন যে ফাইলগুলো আসবে সেগুলো ডিলেট করুন।

 

১৬. মাঝে মধ্যে Run এ গিয়ে  chkdsk লিখে Ok করুন, এখন দেখুন Hard Disk চেক করছে, এই কাজও মাঝে মধ্যে করবেন।

 

১৭. মাঝে মধ্যে Start Menu গিয়ে Disk Cleanup এ যান, এবার C Drive সিলেক্ট করে Ok করুন, এখন দেখুন একটু প্রসেস হয়ে একটা পপআপ আসবে সেখানে অনেক গুলো সিস্টেম জাং ফাইল ডিলেট করার মত টিক চিহ্ন দেওয়ার অপশন আসবে, অনেক গুলো টিক চিহ্ন দেওয়া থাকবে আবার অনেক গুলো দেওয়া থাকবে না, সেখান থেকে যেগুলোতে kb বা mb সাইজের ফাইল আছে সবগুলো টিক দিয়ে Ok করুন, ডিলেট ফাইল নামের অপশন আসবে সেখানে ক্লিক করুন, ক্লিন প্রসেস চলে বন্ধ হয়ে যাবে।

এভাবে করে সবগুলো ড্রাইভ ক্লিন করে দিতে পারেন যদি অন্যান্য ড্রাইভ গুলোতে কেবি এমবি সাইজের ফাইলগুলো থাকে, অনেক সময় অন্যান্য ড্রাইভে বেশি কাজ করা না হলে জাং ফাইল জমা হয় না, তাই আর ড্রাইভ ক্লিন করতে হয় না।

 

১৮. কম্পিউটারে অনেকক্ষন কাজ করার পর যদি দেখেন পিসি স্লো কাজ করছে তাহলে কম্পিউটারটি রিস্টার্ট (Restart) দিয়ে নিতে পারেন। অথবা দীর্ঘক্ষন কম্পিউটার চালালে একবার রিস্টার্ট দিয়ে নিতে পারেন। কারন দীর্ঘক্ষন কম্পিউটারটি চলতে থাকলে প্রোগ্রামের মেমোরিতে বিভিন্ন ফাইল তৈরি হয়ে থাকে, রিস্টার্ট দেওয়ার কারনে এই ফাইল গুলো মুছে যেয়ে কম্পিউটার ফাস্ট হয়।

 

১৯. কম্পিউটারের ওপেন করার সাথে সাথে কম্পিউটারের যত ধরনের সফটওয়্যার ইন্সটল রয়েছে সেগুলো কম্পিউটারের ব্যাকগ্রাউন্ডে রানিং হয়ে যায়, যদিও সবগুলো সফটওয়্যার রানিং অবস্থায় থাকা আমাদের প্রয়োজন হয় না।

আপনার যদি সবগুলো সফটওয়্যার রানিং রাখতে না চান তাহলে কন্ট্রোল +অল্টার +ডিলিট (Ctrl+Alt+Delete) একত্রে চাপলে টাস্ক ম্যানেজার (Task Manager) অপশন আসবে অথবা কম্পিউটারের সার্চ অপশন থেকে টাস্ক ম্যানেজার সার্চ করে ওপেন করার পর দেখবেন এপ্লিকেশন (Applications) অথবা স্টার্টাপ(Startup) (নামের একটি অপশন আছে সেখানে গিয়ে দেখবেন যে সফটওয়্যার গুলো রানিং আছে সেগুলো Running অথবা এনাবল দেখাবে, অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার রানিং রাখতে না চাইলে end task অথবা ডিজেবল করে দিন, তাতে কম্পিউটার ফাস্ট থাকবে।

 

২০. এখন কম্পিউটার মানেই ইন্টারনেট থাকবে এটাই স্বাভাবিক আর ইন্টারনেট চালানোর জন্য যেকোন ব্রাউজারের সাহায্য নিতে হয়। গুগল ক্রম বা মজিলা ফায়ারফক্সসহ যে ব্রাউজারই ব্যবহার করা হোক এসকল ব্রাউজার গুলো আপডেট রাখা উচিত।

আবার অনেক দিন ব্রাউজার ব্যবহারের ফলে ব্রাউজারের হিস্টোরিতে  অনেক ডেটা বা কুকি জমে থাকে যার কারনে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট চালনায় স্লো হতে পারে। মাঝে মধ্যে ব্রাউজারের হিস্টোরিতে (History) গিয়ে ক্লিয়ার ব্রাউজিং ডেটা (clear browsing data) অথবা ক্লিয়ার রিসেন্ট হিস্টোরি (clear recent history) ক্লিক করে সকল ডাটা গুলো মুছে দিন।

 

২১. কম্পিউটারের উইন্ডোস সিস্টেম ও বিভিন্ন সফটওয়্যার যদি লাইসেন্স করা থাকে তাহলে আপডেট রাখুন। যদি কোন সফটওয়্যার আপডেট চায় আর আপনি আপডেট না দেন তাহলে কম্পিউটারের গতি কমে যাবে।

 

আশা করি কিভাবে কম্পিউটার ভাল রাখতে হয় (How to keep a computer well) বা কিভাবে কম্পিউটার যত্ন নিতে হয় এবং কম্পিউটার ভাল রাখার উপায় সম্পর্কে জানতে পারলেন। উপরে ২১টি পয়েন্ট আকারে বলা হলো এই পয়েন্ট গুলো কম্পিউটার ভাল রাখার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

যদি আর্টিকেলটি ভাল লেগে থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন ও অন্যদের জানানোর জন্য শেয়ার করতে পারেন। লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button