Computer

বারবার কম্পিউটার হ্যাং করছে? এই টোটকাগুলো মেনে চলুন

কম্পিউটারের হ্যাং করার সমস্যা থেকে কী করে মুক্তি পাবেন

বিগত আড়াই বছর ধরে কম বেশি সবারই work from home চলছে। সেই প্রথম lockdown থেকে শুরু হয়েছে এই ব্যবস্থা। এর ফলে যাঁদের এখনও work from home চলছে তাঁদের সকলকেই এখন ল্যাপটপ বা কম্পিউটারেই কাজ করতে হয়, মোবাইল ফোনে তো আর সব কাজ সম্ভব নয়। বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য বিভিন্ন নামী সংস্থা তাদের কর্মীদের কম্পিউটার সিস্টেম বা ল্যাপটপ দিয়েছে। তাঁরা কোনও সমস্যায় যদি পড়েন বা কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দেয় তাহলে সেক্ষেত্রে অফিসের আইটি টিম বিষয়টা দেখে এবং সেটাকে মেটানোর চেষ্টা করে।

 

কিন্তু ল্যাপটপ বা ডেস্কটপটা যদি আপনার হয়? কিংবা আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং বা ব্যক্তিগত কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাহলে? সেক্ষেত্রে কম্পিউটারে কোনও সমস্যা হলে সেটাকে আপনাকেই মেটাতে হবে।

আগে জেনে নেওয়া যাক কেন কম্পিউটার হ্যাং (COMPUTER HANG PROBLEM) করে?

বেশ কয়েকটি কারণ থাকে কম্পিউটার হ্যাং করার ক্ষেত্রে। সবসময় ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের স্টোরেজ ফুল হলেই কম্পিউটার হ্যাং করবে এটা কিন্তু নয়। এর বাইরেও অনেক কারণ থাকে যার জন্য কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে। দেখে নিন সেই কারণগুলো কী কী?

 

  • আপনার কম্পিউটারে কি স্টোরেজ অনেক বেশি? তাহলে এটাও একটা কারণ হতে পারে হ্যাং হওয়ার। কারণ যে কম্পিউটারে যত বেশি স্টোরেজ সেটা হ্যাং হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
  • এর পাশাপাশি, আপনাকে যদি এক টানা অনেকক্ষণ কাজ করতে হয় তাহলেও কিন্তু কম্পিউটার স্লো হয়ে যেতে পারে কিংবা হ্যাং করতে পারে। কারণ এক টানা কাজ করলে সেটা ফোনের RAM এর উপর চাপ ফেলে।
  • তৃতীয়ত আপনার কম্পিউটারে যদি ভাইরাস অ্যাটাক হয় তাহলেও কিন্তু সেটা হ্যাং করতে পারে।
  • চতুর্থত, দেখে নিন আপনার কম্পিউটারে কি অনেক টেম্প ফাইল জমা হয়ে আছে? যদি থাকে তাহলে এটাও একটা কারণ কম্পিউটার হ্যাং করার।
  • সবশেষে, যেখানে বসে আপনি কাজ করেন সেই জায়গাটা যদি খুব গরম হয় তাহলেও কিন্তু কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে।

computer

কম্পিউটারের হ্যাং করার সমস্যার সমাধান কী?

কোনও যন্ত্র মানে তাতে যে কোনও সময় যে কোনও সমস্যা তৈরি হতেই পারে। সেই সমস্যাগুলোর মধ্যে কোনটা খুব সাধারণ হয়, কোনটা আবার বেশ জটিল! এর মধ্যে সব থেকে কমন হচ্ছে হ্যাং করার সমস্যা যা হয়তো আপনিও সমাধান করতে পারবেন। তাই জেনে নেওয়া যাক কী করলে আর কম্পিউটার হ্যাং করবে না। কোন কোন বিষয়ে এরপর থেকে নজর রাখবেন সেটা জেনে নিন।

  • প্রথমত কম্পিউটারের স্টোরেজ বাড়াতে থাকুন। কারণ প্রতিটা কম্পিউটারের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি থাকে। ফাইল সেভ করতে থাকলে একটা সময়ের পর গিয়ে আর জায়গা থাকে না নতুন ফাইল সেভ করার। কারণ স্টোরেজের পরিমাণ দিন দিন কমতে থাকে। তাই কম্পিউটার হ্যাং করে। ফলে হ্যাং করা থেকে মুক্তি পেতে হলে কম্পিউটারে স্টোরেজের পরিমাণ বাড়াতে হবে। RAM এর পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে বা প্রয়োজনে ক্লাউড স্টোরেজে ফাইল সেভ করতে পারেন।
  • দ্বিতীয়ত, কম্পিউটারে সবসময় অ্যান্টি ভাইরাস ব্যবহার করুন এর ফলে আপনার কম্পিউটার সুরক্ষিত থাকবে। কারণ ভাইরাস অ্যাটাক কিন্তু হামেশাই হয়, আর হলে কম্পিউটার হ্যাং করে। তাই সেই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে, অ্যান্টি ভাইরাস কম্পিউটারে ইনস্টল করে রাখাই ভাল।
  • তৃতীয়ত, আপনি যেখানে কাজ করেন চেষ্টা করুন সেই জায়গাটা যেন অতিরিক্ত গরম না হয়। কারণ কম্পিউটারের প্রতিটা ইউনিট, সে সিপিইউ হোক বা অন্য কিছু তারা একটা নির্দিষ্ট মাত্রার পর আর গরম নিতে পারে না তখন হ্যাং করে। তাই সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা ভীষণ জরুরি।
  • চতুর্থত, কম্পিউটারের টেম্প ফাইলের যে ফোল্ডার আছে তাকে নিয়মিত দেখা এবং ডিলিট করা প্রয়োজন। কারণ সিস্টেমে যত বেশি টেম্প ফাইল থাকবে তত হ্যাং করার সমস্যা বাড়বে।
  • সবশেষে, আপনার কম্পিউটার যদি আপনাকে কোনও আপডেটের কথা বলে তাহলে তা অবশ্যই করুন। প্রতিটা কম্পিউটারে সে iOS হোক বা উইন্ডোজ সবেতেই একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর OS আপডেট করা উচিত। কারণ উল্লিখিত কারণ সহ অন্য কারণেও যদি কম্পিউটার স্লো হয়ে যায় বা হ্যাং করে তাহলে সেটা OS আপডেটের মাধ্যমে অনেকটাই সমাধান করে ফেলা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button