কম্পিউটারের ইতিহাস- The History of Computer Part 01

Posted on

কম্পিউটারের প্রাক প্রসঙ্গ

বিজ্ঞানীদের বদ্ধমূল ধারণা মতে, যিশু খ্রিস্টের জন্মের  ৩,৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন ব্যাবিলীয়ানরা বিভিন্ন রেকর্ড সংক্ষণের জন্য ক্লে ট্যাবলেট ব্যবহার করতাে। হিসাব নিকাশের জন্য গণনার কাজে মানুষ নিজের হাতের আঙুল ব্যবহার করেছে । নুড়ি, ছােট ছােট কাঠি, দড়ির গিঁট ইত্যাদি ব্যবহার করে ঠিক রেখেছে হিসাব-নিকাশ। খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ বছর আগে মানুষ এ্যাবাকাস যন্ত্রের ব্যবহার করে। বলা যায় এটাই প্রথম সংখ্যাভিত্তিক বা ডিজিটাল গণনা যন্ত্র। চীন দেশে প্রথম এ্যাবাকাস যন্ত্র আবিষ্কার হয়। জাপানে এ যন্ত্রের নাম সরােজন’। মুলত এ্যাবাকাস হলাে আয়তাকার একটা কাঠামাে। এর মধ্যে কতগুলাে তার আড়াআড়ি বসানাে থাকতাে। প্রতিটি তার আবার দুটো অংশে ভাগ করা। উপরের অংশে দুটো করে আর নিচের অংশে পাচটা করে পুঁতি থাকতাে। উপরের প্রত্যেকটি পুঁতির মান ৫ আর নিচের প্রত্যেকটি পুঁতির মান ১। প্রতিটি তার আবার একক, দশক, শতক, হাজার বােঝায় । গণনা কাজে ঠিক সংখ্যার পুঁতি উপরের দিকে ঠেলে দিতে হতাে। ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি গণিত বিশারদ প্যাসকেল সহজে গণনা করার জন্য ‘প্যাসকেলাইন’ নামের একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন। ধারণা করা হয়, এটি পৃথিবীর সর্বপ্রথম ক্যালকুলেটর । এরপর ২০০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। ১৮৩৩-৩৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী চার্লস ব্যাবেজ যে ধারণা দেন, আধুনিক কম্পিউটার সে অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়। তাই চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়। তিনি তার ধারণা অনুযায়ী তিনি নিজে কম্পিউটার তৈরি করে যেতে পারেন নি। তবে তা পরবর্তীতে বাস্তবে রূপ লাভ করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাত্ত্বিক বিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং আধুনিক কম্পিউটারের গঠন কী রকম হওয়া উচিত, কেন এ রকম হওয়া উচিত, এটির কর্ম ক্ষমতা কত দূর এবং কোথায় এর দুর্বলতা তার একটি সার্থক মডেল তিনি বিজ্ঞানীদের সামনে তুলে ধরেন। আজকের কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের মাঝে টিউরিং-এর মেশিন (Turing Machine) নামে সমধিক প্রচলিত। অ্যালান টিউরিং-এর কম্পিউটার মডেলের বাস্তব রূপ দিলেন ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে জার্মান বিজ্ঞানী কনরাড জুস। তিনি আবিষ্কার করেন জেড-ওয়ান (21) নামক প্রথম প্রােগ্রাম চালিত যান্ত্রিক কম্পিউটার। সে বছর প্রথম ইলেক্ট্রনিক কম্পিউটারের আদি রূপ তৈরি হয় ড. ভিনসেন্ট অ্যাটাফ এবং ক্লিফোর্ড বেরি নামক দুই মার্কিন বিজ্ঞানী কর্তৃক । তাদের নামানুসারে ঐ কম্পিউটারের নাম দেওয়া হয় অ্যাটাসফ বেরি কম্পিউটার সংক্ষেপে (ABC)। ১৯৪০-৪১ খ্রিস্টাব্দে জন মসিল নামক এক বিজ্ঞানী (ABC)-কে আরাে উন্নত করার জন্য আমেরিকার সামরিক বিভাগের ব্যালিস্টিক রিসার্চ ল্যাবরেটরিত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আবিষ্কার করলেন ‘এনিয়াক’ {ENIAC) নামক কম্পিউটার যার ওজন ছিল ৩০টন এবং আকৃতি ছিল ৩টি বিশাল ঘর জুড়ে । এনিয়াক-ই ছিল পৃথিবীর প্রথম পুর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক কম্পিউটার। আধুনিক কম্পিউটার আবিষ্কার হয় ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে। আর কম্পিউটারের ব্যাপক প্রচলন আরম্ভ হয় ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের পর প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কম্পিউটার বাজারজাত করা হয়। প্রথম যুগের কম্পিউটার ছিল বিশাল বড়। সেগুলাে যিনি আবিষ্কার করেছেন তিনি ছাড়া আর কেউ তা চালাতেই পারতাে না. পরে খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ থেকে ৭০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে আবিষ্কৃত হয় ঘড়ি। সেই ঘড়ি কিন্তু নিজে নিজে চলতে পারতাে না।

তাকে চালানাের জন্য সহযােগিতার দরকার হতাে। কিন্তু মানুষের আশা যন্ত্র যেন নিজে নিজে চলতে সক্ষম হয়। ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী প্যাসকল আবিষ্কার করেন যােগ বিয়ােগ করার একটি যন্ত্র । পাসকলের পিতা ছিলেন একজন সরকারি চাকরিজীবী— তাকে কর আদায়ের হিসাব রাখতে হতাে। ওই হিসাব করার ব্যাপারটি কী যে ঝামেলার এবং কষ্টের! বাবাকে ঝামেলামুক্ত করতে প্যাসকল নামলেন গবেষণায়। অবশেষে তিনি আবিষ্কার করেন যােগ বিয়ােগের যন্ত্র। তিনি তার আবিষ্কৃত যন্ত্রটির নাম দিলেন ‘প্যাসকালিন’। যােগ বিয়ােগ ছাড়াও আরাে অন্যান্য হিসাব করা যায় এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করলেন জার্মান বিজ্ঞানী লাইবনিৎজ। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ কম্পিউটার আবিষ্কারের একশাে বছর আগে কম্পিউটারের মূল সূত্র বর্ণনা করেন। তাই তাকে বলা হয় কম্পিউটারের জনক। তিনি বললেন, যন্ত্রের মাধ্যমে জটিল অংক সহজে করা সম্ভব। তিনি ১৮৩৩ থেকে ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করে আবিষ্কার করলেন এনালাইটিক্যাল মেশিন। এটিকেই পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার বলা যায় ।

তার এ কম্পিউটারের ছিল তিনটি অংশ। যথা : ১. স্টোর ও বাণ্ডার, ২. মিল বা কারখানা ও ৩. সিকোয়েন্সিয়াল মেকানিজম বা পর্যায়ক্রমিক যান্ত্রিক কাজ। তাছাড়া ব্যাবেজের যন্ত্রে ছিল স্মৃতি। ১০০টি সংখ্যা এতে জমা থাকতাে। এর ১০০ বছর পর হাওয়ার্ড এইকেন যে আধুনিক কম্পিউটার তৈরি করেন তারও ছিল তিনটি উপাদান। যথা : ১. ম্যাগনেটিক কোর, ২, রেজিস্টার ও ৩, প্রােগ্রাম। তিনি এটি করেছিলেন ব্যাবেজকে অনুসরণ করে। ব্যাবেজের ছাত্রী কবি বায়রনের কন্যা এডাবায়রন ব্যাবেজ আবিষ্কৃত কম্পিউটারের জন্য কিছু নির্দেশ রচনা করেন। তাই তাকে ‘পৃথিবীর প্রথম প্রােগ্রামার’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। অবশ্য কম্পিউটারের ইতিহাসে এর পরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন হার্মেন হলারিথ । যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর অন্তর অন্তর দেশের লােক গণনা করার নিয়ম। ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে লােক গণনার কাজ শুরু করে তা ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দেও শেষ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের গণনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকার যন্ত্রের সাহায্যে লােক গণনার ইচ্ছে প্রকাশ করে। কিন্তু তেমন যন্ত্র তাে থাকা দরকার। ২৫ বছর বয়সের পরিসংখ্যানবিদ হলারিথ আবিষ্কার করেন তেমনি একটি যন্ত্র। নাম দেন ‘সেন্সস মেশিন’। এটি বিশ্বের প্রথম ডাটা প্রসেসিং যন্ত্র। এ যন্ত্রের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বুঝে হলারিখ ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ট্যাবুলেটিং মেশিন কোম্পানি গঠন করেন। এটি সহ অন্য কয়েকটি কোম্পানিকে একত্রিত করে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে আই.বি.এম. প্রতিষ্ঠা করা যায়। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাওয়ার্ড এইকেন স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল কম্পিউটার তৈরির কাজে হাত দেন। সে দেশের নৌবাহিনী তাকে এ কাজে সহায়তা করে। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কম্পিউটার ‘সার্ফ-১’-এর কাজ সমাপ্ত করতে সমর্থ হন।

 

তবে এই কম্পিউটারটি দৈর্ঘ্য ছিল ৫১ ফুট, উচ্চতা ৮ ফুট। প্রােগ্রামিংয়ের জন্য এতে ছিদ্র করা টেপ ব্যবহার করা হয়েছিল। ভেতরের কাজ ছিল ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক্যালি বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয়। এ কম্পিউটারের কোনাে স্মৃতি ছিল না। আর তাই এটি দ্বারা কোনাে তথ্য জমা করে রাখা যেত না। প্রথম যে ইলেকট্রনিক্স কম্পিউটার তৈরি হলাে তার নাম এনিয়াক’। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে এটি তৈরি করেন জে প্রেসপার একার্ট জুনিয়র এবং জন ডব্লিউ মকলিকে। মকলিকে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছাত্র একার্ট জন সঙ্গে নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় এনিয়াক তৈরি করেন। মার্ক- ১’ এর চেয়ে এনিয়াক আকারে বেশ ছােট ছিল। এনিয়াকের ওজন ৩০ টন বা ২৭ হাজার কেজি। দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট, প্রস্থ ২০ ফুট। ১৫০০ বর্গফুট জায়গার দরকার হয়েছিল এটি স্থাপন করতে এর মধ্যে ছিল প্রায় ১৮ হাজার ভ্যাকুয়াম টিউব। প্রতিদিন অন্তত দু হাজার ভ্যাকুয়াম টিউব নষ্ট হয়ে যেত। আর মেশিন চালু রাখার জন্য তা প্রতি মাসেই বদলাতে হতাে। এজন্য ৬ জন কর্মী সব সময় নিয়ােজিত থাকতাে। এনিয়াক প্রত্যেক সেকেণ্ডে ৫ হাজার সংখ্যা যােগ করতে সক্ষম ছিল। ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে জন ভন নিউম্যান এক গবেষণাপত্রে কম্পিউটারে প্রােগামিংয়ের তত্ত্ব প্রকাশ করেন। আগে প্রােগ্রামিংয়ের কাজ করা হতাে তারের সংযােগ খুলে। প্রতিবারে ভিন্নভাবে লাগাতে হতাে। মকলি ও একটি জন ভন নিউম্যানের ধারণার ওপর নির্ভর করে তৈরি করেন এডভাক। এটি অবশ্য পুরােপুরি মেমােরি নির্ভর নয়। পুরাে মেমােরি নির্ভর কম্পিউটার এডসাক তৈরি হয় ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এটি আবিষ্কার করেন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে মকলি ও একার্ট কম্পিউটার ইউনিভাক তৈরি করেন। এ কম্পিউটারটি প্রথম কোনাে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি হয়। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ইউনিভাক-১’ কিনে নেয় অ্যাপ্লায়েন্স পার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ট্রান্সিস্টর আবিষ্কার হয়। এটি বিদ্যুৎকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি মাধ্যম। কম্পিউটারের উন্নতিতে এই ট্রান্সিস্টরের বিশেষ অবদান রয়েছে। ট্রান্সিস্টরের সুবিধার পাশাপাশি ছিল বেশ কিছু অসুবিধা। এটি খুব সহজে ভেঙ্গে যেত। প্রায় বাের্ড থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসতাে। তখন বিকল হয়ে পড়তাে কম্পিউটার। ওই সমস্যার সমাধান করতে বিজ্ঞানীরা ভাবনা চিন্তা করতে থাকেন। ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে তারা তৈরি করেন আই.সি. বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। এর ঠিক ১০ বছর পর কম্পিউটার প্রযুক্তির আরাে উন্নতি হলাে। তৈরি হলাে মাইক্রো প্রসেসর। বর্তমানের একেকটি মাইক্রোপ্রসেসরে ১ কোটির উপরে ট্রান্সিস্টর রয়েছে। কম্পিউটার প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এর আকারও অনেক কমেছে। আগে যা স্থাপন করতে বিশাল জায়গার দরকার হতাে এক সময় তা আকারে ছােট হতে হতে টেবিলের কোণায় কিংবা হাতে বহন করার মতাে রূপ নিয়েছে। আর এর গতি বা প্রসেসিং ক্ষমতাও বেড়েছে বিস্ময়কর ধরনের।

কম্পিউটারের প্রজন্মসমুহ:

কম্পিউটারের প্রথম প্রজন্ম আমাদের এই বিস্ময়কর কম্পিউটারের ইতিহাসকে প্রজন্ম দিয়ে ভাগ করলে প্রথম প্রজন্মের মেয়াদ ধরা হয় ১৯৪৪ থেকে ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এ সময়ের কম্পিউটার কেমন ছিল তা সংক্ষেপে বললে এরকম :

১. ডাটা ঢােকানাের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে পাঞ্চ কার্ড।

২. ডাটা ধারনের জন্য ম্যাগনেটিক টেপ।

৩, ভ্যাকুয়াম টিউব নির্ভর

মেমােরি। তাছাড়া কোনাে কোনােটিতে মেমােরির জন্য ড্রাম ব্যবহৃত হয়েছে। ৪. কম্পিউটারের গতি ছিল খুবই ধীর। ৫. একবারের মাত্র একটি প্রােগ্রাম চালানাে যেত। ৬, মার্ক-টু’, ‘এনিয়াক’, ‘এড়সাক’, ‘এডভাক ইউনিভাক’ ইত্যাদি এ জনের কম্পিউটার। ৭. দাম ছিল একেবারে আকাশ ছোঁয়া। ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে একটি ইউনিভাক কম্পিউটারের দাম ছিল ৫ লক্ষ মার্কিন ডলার। ৮. প্রতিটি কম্পিউটার ছিল খুব বিশাল আকারের। ৯. রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা ছিল কনুনাতীত।
কম্পিউটারের দ্বিতীয় প্রজন্ম। কম্পিউটারের দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়াদ ধরা হয় ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এ সময়কার কম্পিউটার হলাে : ১, ভ্যাকুয়াম টিউবের বিদায় এবং তার জায়গায় ট্রালিস্টরের আগমন। ২. মেমােরি হিসেবে তৈরি হয় ম্যাগনেটিক কোর। ৩, তথ্য ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয় অপসারণযােগ্য ডিস্ক। ৪. কম্পিউটারের আকার ছােট হয়েছে, গতি বেড়েছে এবং দাম অনেক কমেছে। ৫, উচ্চ স্তরের প্রােগ্রামিং ভাষার ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পায়।

কম্পিউটারের তৃতীয় প্রজন্ম: তৃতীয় প্রজন্মের মেয়াদ হলাে ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। ৩৬০মেইনফ্রেম সিস্টেম আই.বি,এম, পরিবারে প্রবর্তনের সঙ্গে এ প্রজন্মের আরম্ভ মােটামুটিভাবে এ সময়ে কম্পিউটারের যে রূপ ধরা পড়ে তা হলাে :১, আইসির ব্যবহার। ২. ডাটা ধারণের জন্য ম্যাগনেটিক ডিস্কের ব্যবহার শুরু। ৩, মাল্টি প্রােগ্রামিং বা একসঙ্গে কয়েকটি প্রােগ্রামিং করার সুযােগ। ৪. ১৯৭০ এ মিনি কম্পিউটার চালু। ৫, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার আলাদা আলাদাভাবে বিক্রি সিদ্ধান্ত হয়। ফলে সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশ ঘটে ব্যাপক হারে।

কম্পিউটারের চতুর্থ প্রজন্ম: কম্পিউটারের চতুর্থ প্রজন্ম হিসেবে ১৯৭১ থেকে চলমান সময়কে ধরা হয়। এ সময়ে কম্পিউটারের উন্নতি সাধিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যেমন :১. ১৯৭১ এ টেড হফ মাইক্রোপ্রসেসরের উদ্ভাবন। ২. তথ্য প্রযুক্তির অনেক উন্নয়ন। ৩. মাইক্রোপ্রসেসরে সম্পূর্ণ একটি সি.পি.ইউ, একটি চিপে আটকানাে হয় । ৪, ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে এপল কম্পিউটার এবং ১৯৮৩-তে এপল ম্যাকিনটোশ বাজারে আসে। ৫. ১৯৮১-তে আই.বি.এম পিসির আর্বিভাব। ৬, সফটওয়্যারের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন। ৭. বিস্ময়কর আবিষ্কার ইন্টারনেটের সংযােজন। ৮, কম্পিউটারের আকার অনেক ছােট হয়। কার্যক্ষমতা আরাে বৃদ্ধি পায়। দাম সাধারণের হাতের নাগালে থাকে।

হার্ডওয়্যার পরিচয়:

একটি কম্পিউটারের যা দৃশ্যমান অর্থাৎ দেখা যায় এরকম যন্ত্র ও যন্ত্রাংশই হার্ডওয়্যার। আর দেখা যায় না অথচ অন্তরালে থেকে কম্পিউটারকে চালায় তাই সফটওয়্যার। একটা কী-বাের্ড, মনিটর, সিস্টেম ইউনিট ন্যূনতম এই কয়টি হার্ডওয়্যার সামগ্রী যুক্ত করে কম্পিউটার থেকে আমরা কাজ পেতে পারি। কম্পিউটারকে মাল্টি পারপাজে ব্যবহার করতে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযােজন করতে হয়। এ কারণে শুধু প্রসেসর ইউনিটকে কম্পিউটার বললে অন্যান্য হার্ডওয়্যারগুলােকে ‘পেরিফেরাল’ হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। যেসব হার্ডওয়ারের সমন্বয়ে কম্পিউটারের সিস্টেম তৈরি হয়, সেগুলাের প্রকৃতি অনুসারে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : ১. ইনপুট হার্ডওয়্যার, ২. প্রসেসিং হার্ডওয়্যার, ৩. স্টোরেজ হার্ডওয়্যার ৪. আউটপুট হার্ডওয়্যার ও ৫. কমিউনিকেশন বা যােগাযােগের হার্ডওয়্যার।
ইনপুট হার্ডওয়্যার। Input Hardware বলা যেতে পারে ময়দার মিলে গম নিয়ে গেলে তা প্রসেসিং-এর মাধ্যমে ময়দায় রূপান্তরিত করা হয়। এখানে গম হলাে ‘ইনপুট বা উপকরণ । আর ময়দা হলাে
আউটপুট’। গম থেকে ময়দা হতে যে প্রক্রিয়ার প্রয়ােজন তা করে ফ্লাওয়ার মিল। একইভাবে কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াকরণের কাজ কম্পিউটার করবে। তবে আমরা যা করতে চাই প্রথমে তা ইনপুটের মাধ্যমে কম্পিউটারকে জানাতে হবে। তবেই কম্পিউটার গাধার মতাে সেই কাজটি করে যাবে। কিন্তু কম্পিউটার তাে আর আমাদের ভাষা বােঝে না। তার রয়েছে যান্ত্রিক ভাষা । তাই আমাদের ভাষা যেমন ABCD, ক খ গ ঘ অথবা ১ ২ ৩ ৫ ইত্যাদির রূপান্তর করেই কম্পিউটারে ইনপুট করতে হবে। কম্পিউটারে কোনাে কিছু ইনপুটের প্রধান মাধ্যমে হলাে কী বাের্ড। এছাড়া ইনপুট দেওয়ার জন্য মাউস’, ‘টাস প্যাড’, ‘জয়স্টিক’, ‘স্ক্যানার ইত্যাদি রয়েছে। এসব যন্ত্রকে একসঙ্গে ইনপুট হার্ডওয়্যার বলে। ইনপুট হার্ডওয়্যারকে আবার দু ভাগে ভাগ করা যায় । যথা :১. বাের্ড এন্টি ও ২. ডাইরেক্ট এন্ট্রি। ইনপুট হার্ডওয়্যারের যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে : ১. কী বাের্ড, ২. মাউস, ৩, টার্মিনাল, ৪. জয়স্টিক, ৫. ট্র্যাক বল, ৬. টাচ প্যাড, ৭, লাইট পেন, ৮. টাচ স্ক্রিন, ৯, গেম প্যাড, ১০. স্ক্যানার, ১১. বারকোড রিডার, ১২. অপটিক্যাল রিডার, (ক) ও.সি.আর (খ) ও.এম.আর, ১৩, ডিজিটাইজিং টেবলেট, ১৪. স্মার্টকার্ড, ১৫, মাইক্রোফোন, ১৬, ডিজিটাল ক্যামেরা এবং ১৭, ডিজিটাল ভিডিও ক্যামেরা ইত্যাদি।

ইনপুট হার্ডওয়্যার পরিচয় কী বাের্ড। Key Board কী’ শব্দের অর্থ চাবি। সাধারণত টাইপরাইটারের মতাে ইংরেজি অক্ষর এবং বিশেষ কিছু চিহ্ন সারি সারি করে সাজানাে থাকে একটি বাের্ডে। কী বাের্ডের ভেতর আছে একটি সার্কিট বাের্ড এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ। কোনাে একটি কীতে চাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি বিশেষ নির্দেশ বা বাের্ড তৈরি করে। তারপর কোড রচিত হয় যন্ত্রের ভাষায়। কী বাের্ডের তারের মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক সংকেত সিস্টেম ইউনিটে বা প্রসেসিং হার্ডওয়্যারে চলে যায়। ইংরেজি বর্ণগুলাে ছাড়াও কী বাের্ডে থাকে অনেকগুলাে বিশেষ ধরনের কী । যেমন : কন্ট্রোল কী’, ‘এন্টার কী’, ‘অলটার কী, ফাংশন কী’ প্রভৃতি। Key Board – Fas TTC

উইন্ডােজের জন্য ব্যবহৃত কী-বাের্ডে ১৯৪টি কী রয়েছে। এতে স্টার্ট মেনু খােলার জন্য দুদিকে দুটি এবং কনটেক্সট মেনু খেলার জন্য আছে একটি কী। ওই জাতীয় কী-বাের্ডই বর্তমানে চালু রয়েছে। ওই কী-বাের্ডে আছে কন্ট্রোল’, ‘অলট, ট্যাব’, ব্যাকস্পেস’, ‘এসকেপ, ইনসার্ট’, ‘হােম’, ‘এ’ প্রভৃতি। কী-বাের্ডে চারটি এ্যারাে কী আছে । এগুলাের গায়ে তীর চিহ্ন রয়েছে। কার্সরকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এই কী ব্যবহৃত হয়। এরাে কীর সাহায্যে ওপরে, নিচে, ডানে, বামে কার্সরকে নেওয়া যায় অতি সহজে কী বাের্ডের ওপরের সারিতে রয়েছে ফাংশন কী। বিভিন্ন সফটওয়্যারে ফাংশন কীর বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার রয়েছে। সম্প্রতি কী বাের্ডের বাংলা অক্ষর চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে বােঝা খুব সহজ হয়।

 

মাউস। Mouse

এটি একটি প্রাণীর নাম। মাউস’ শব্দের অর্থ ইদুর। এটি দেখতে আসলে অনেকটা ইঁদুরের মতাে। তাই হয়তাে এর নাম রাখা হয়েছে মাউস’। একটি তারের সাহায্যে সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকে ওটি। একটি সমতল প্যাডের ওপর মাউসকে রাখা হয়। প্রতিটি মাউসে দুই বা তিনটি বাটন থাকে। আর থাকে একটি ট্র্যাকিং বল। মনিটরে মাউসের একটি চিহ্ন মুভ করে, এটিকে বলে পয়েন্টার’। মাউস মুভ করানাের সঙ্গে সঙ্গে মনিটরে পয়েন্টার ডিভাইসটিও নড়াচড়া করে, এদিক-ওদিক ছােটাছুটি করে । সাধারণত পয়েন্টার দেখতে তীরের মতাে। তবে কার্যক্ষেত্রে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। কখনাে মুষ্টিবদ্ধ হাত, কখনাে তর্জনি, কখনাে মাছির মতাে। মাউসের বাটন চেপে ধরে রেখে কম্পিউটার ব্যবহারকারী কোনাে অবজেক্টকে সিলেক্ট বা চিহ্নিত করতে হয়। কোনাে লেখাকে সিলেক্ট করতে হলে মাউসের বাটন চেপে ধরে তারপর ছেড়ে দিয়ে কোনাে অংশকে চিহ্নিত করা হয়। এ অবস্থাকেই ‘সিলেক্ট’ বলে। সিলেক্ট করা অংশকে বাটনচেপে ধরে টেনে নেওয়াকে বলে ‘ড্রাগ’ | আর সিলেক্ট করা অংশকে কোনাে জায়গায় নিয়ে মাউসের বাটন ছেড়ে দেওয়াকে বলে ‘ড্রপ’ করা। এমন অনেক কাজ আছে যা কী বাের্ডের সাহায্যে সম্পন্ন করতে অনেক সমস্যা হয়। তাই ওগুলাে মাউসের সাহায্যে সম্পাদন করা হয়ে থাকে।

টার্মিনাল। Terminal:

মাইক্রো কম্পিউটারে সম্পূর্ণ কম্পিউটারটিই ব্যবহারকারী চোখের সামনে থাকে। কিন্তু মিনি বা মেইনফ্রেম কম্পিউটারের বেলায় তা হয় না। এসব কম্পিউটারের ইনপুট হার্ডওয়্যার হিসেবে টার্মিনাল ব্যবহৃত হয়। টার্মিনাল তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা : ১। ডাম্ব টার্মিনাল, ২। স্মার্ট টার্মিনাল, ৩। ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনাল । শুধু ডাটা আদান-প্রদানের জন্য ডাম্ব টার্মিনাল ব্যবহার করা হয়। স্মার্ট টার্মিনালে ডাটা পড়া যায় এবং এর যথাযথ পরীক্ষা করা যায়। আর ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনাল একটি মাইক্রো কম্পিউটার এটিকে কোনাে সময় পৃথক পৃথকভাবে টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় না।

ট্রাক বল। Track Ball

কম্পিউটারে একটা সাধারণ মাউসকে যদি আমরা উল্টো করে ধরি তবে দেখতে পাবাে একটি বল রয়েছে পেছন দিকটায়। ট্রাক বল কিন্তু এ রকমই। যে কম্পিউটার বহন করা হয় সেই সমস্ত কম্পিউটারে ট্রাক বল ব্যবহৃত হয়। মাউসের মতাে এটিকে নাড়াচাড়া করতে হয় না। শুধু আঙুল দিয়ে ট্রাক বলকে নাড়ালেই পয়েন্টার কাজ করে যায় অবিরামভাবে।

জয়স্টিক। Joystick

জয়স্টিক দেখতে অনেকটা উড়ােজাহাজের গিয়ারের মতাে, হ্যান্ডেল ধরনের। এটি সামনে পেছনে নাড়ানাে যায়। দু পাশে ড্রাইভ করা যায়। এ ধরনের হ্যান্ডেলের নামই জয়স্টিক। ভিডিও গেম খেলার জন্য জয়স্টিক ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটারকে দ্রুত কোনাে নির্দেশ দেওয়ার জন্য জয়স্টিক খুবই কার্যকরী। এত দ্রুত কী বাের্ড বা মাউসের মাধ্যমে কম্পিউটারকে কোনাে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হয় না।

টাচ প্যাড। Touch Pad

কিছু কিছু ল্যাপটপে ট্রাক বলের বদলে টাচ প্যাড ব্যবহার করা হয়। টাচ প্যাডের নিচের দিকে আছে দুটি বাটন। প্যাডে হাত দিয়ে পয়েন্টারকে প্রয়ােজন মতাে
জায়গায় নিয়ে বাটনগুলাে ক্লিক করলে মাউসের মতাে কাজ করে ।

গেম প্যাড। Gaine Pad

ভিডিও গেমের সহযােগী ইনপুট মাধ্যম হিসেবে গেম প্যাড ব্যবহৃত হয়। গেম প্যাডে ৪টি এ্যারাে কী থাকে এবং জয়স্টিকের মতো একটি ছােট হ্যান্ডেলও থাকে। খুব অল্প জায়গায় একসঙ্গে এতােগুলাে কী থাকে বলে গেম প্যাডের মাধ্যমে খেলার সুবিধা হয় অনেক।

লাইট পেন।Light Pen

কলমের মতাে দেখতে লাইট পেন একটি আলােক সংবেদনশীল যন্ত্র। গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানীরা লাইট পেনের মাধ্যমে কম্পিউটারে কাজ করে থাকেন। এটি একটি সুন্দর পদ্ধতি।

স্ক্যানার। Scanner

আমাদের মানুষের সাধারণ ভাষা কম্পিউটার পড়তে না পারলেও ছবির ভাষা ঠিকই পড়তে পারে। তবে ছবির সাধারণ অবস্থাকে ডিজিটাল রূপান্তর করেই কম্পিউটার তা বুঝতে পারে। এ কাজটি করতে কম্পিউটারে ইনপুট হার্ডওয়্যার হিসেবে ব্যবহৃত হয় স্ক্যানার। ফটোগ্রাফ, ছবি, লােগাে ইত্যাদিকে পিক্সেলে পরিবর্তন করে ইমেজ তৈরি করার কাজটি স্ক্যানার করে থাকে। স্ক্যানারে সাধারণত দুই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় , যথা :১. সি.সি.ডি বা চার্জড কাপল ডিভাইস এবং ২. ড্রাম প্রযুক্তি। সি.সি.ডি অনেকটা ফটোকপি মেশিনের মতাে। এই প্রযুক্তিকে কোনাে ইমেজের ওপর তীব্র আলাে ফেলা হয়। আর আলােগুলাের মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন বিন্দুকে বিশ্লেষণ করে ছবির রং ও ছায়াকে বৈদ্যুতিক মান প্রদান করে। তার থেকেই বাইনারি ডাটা বা বিট হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। বিভিন্ন বিট বিভিন্ন রংয়ের ছায়াকে দেখায়। কোনাে ছবি থেকে যদি অধিক ডাটা সংগ্রহ করতে পারে স্ক্যানার তবেই ছবির মান তত ভালাে আসে। বাজারে কয়েক ধরনের স্ক্যানার রয়েছে। যেমন : হ্যান্ড হেল্ড। ফ্লাট বেড বা শিট ফেড স্ক্যানার দুটোই পিসির সঙ্গে বেশি ব্যবহৃত হয়। ফ্লাড বেড স্ক্যানার একদম ফটোকপির মতাে। ফটোকপিকে যেমন ছবিকে কাঁচের ওপর রাখতে হয় এতেও সে রকম কাঁচের ওপর রাখার পর তার ওপর দিয়ে বিশেষ আলাে ফেলে স্ক্যানের কাজ সম্পন্ন হয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এর মাধ্যমে করা হয় ।

বারকোড রিডার। Bar Code Reader

আমরা সচরাচর কোনাে আমদানী করা পণ্য বা রফতানিযােগ্য পণ্যের প্যাকেটে পাশাপাশি বেশ কিছু কালাে দাগ দেখতে পাই। এ দগের নিচ দিয়ে কয়েকটি সংখ্যাও লেখা থাকে। এটা আসলে এক প্রকারের সাংকেতিক লেখী। একে বলে বারকোড়। এই বারকোর্ডের লেখা বারকোড রিডারের মাধ্যমে কম্পিউটার পড়তে পারে। আর তা থেকেই পণ্যের নাম দাম, মজুত, উৎপাদনের তারিখ, ইত্যাদি জানা যায়। বারকোড রিডার অনেকটা স্ক্যানারের মতােই কাজ করে। এই জাতীয় হার্ডওয়্যারকে একসঙ্গে স্ক্যানিং ডিভাইস’ নামে অভিহিত করা হয়।
অপটিকাল রিভার। Optical River বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণ, পরীক্ষার সময় খাতায় রােল, কেন্দ্র, বিষয় ইত্যাদি পরিচয় লেখার পদ্ধতি সম্পর্কে কারাে অজানা নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা বৃত্তাকার ঘরকে পেনসিল দিয়ে পূরণ করার পর সেগুলাে কম্পিউটারের প্রক্রিয়া করা হয়। এটি একটি সুন্দর প্রক্রিয়া।
প্রসেসিং হার্ডওয়্যার। Processing Hardware সাধারণত সিস্টেম ইউনিটের ভেতরের হার্ডওয়্যারগুলােকে প্রসেসিং হার্ডওয়্যার বলে। এই হার্ডওয়্যারের কাজ হলাে সফটওয়্যারের মাধ্যমে পাওয়া নির্দেশগুলােকে সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সম্পাদনা করা। সি.পি.ইউ, মাদারবাের্ড, সিস্টেম ক্লক, র্যামচিপ, রম চিপ, ফ্ল্যাশ রম, এক্সপানশন বাের্ড ও শ্লট, পাের্ট, ডি-র্যাম ইত্যাদি প্রসেসিং হার্ডওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত।

সি.পি.ইউ। C.P.U

সি.পি.ইউ-এর পুরাে অর্থ হলাে ‘সেন্ট্রাল প্রসেসর ইউনিট’। সচরাচর সিস্টেম ইউনিট হিসেবে কম্পিউটারের পুরাে বাক্সটাকেই সি.পি.ইউ বলে উল্লেখ করা হয়। সি.পি.ইউ’কে মাইক্রো প্রসেসরও বলা হয়। Mother Board – মাদার বোের্ড পেন্টিয়াম-টু, পেন্টিয়াম-থ্রি এভাবে আমরা কম্পিউটারের নাম বলে থাকলেও এটা কিন্তু আসলে মাইক্রো প্রসেসরের একটি নাম। বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের মাইক্রো প্রসেসরের চিপ তৈরি করে। তবে ভিন্ন ভিন্ন চিপকে একই ধরনের কাজের জন্য তৈরি করা যায়। পিসিতে দুই ধরনের স্থাপত্যের প্রসেসর ব্যবহৃত হয়। আর সেই অনুযায়ীই কম্পিউটারকে ‘অ্যাপল’ ও ‘আই.বি.এম’ বলা হয়ে থাকে। আই.বি.এম, কম্প্যাটিবল বা আই,বি,এম, গােত্রের কম্পিউটারকে আই.বি, এম,’ বলা হয়ে থাকে।

এই প্রকার কম্পিউটারকে ‘আই.বি.এম ক্লোন’ও বলা হয়। আই.বি.এম. পিসিতে ৮০৮৬ ধরনের চিপ ব্যবহৃত হয়। আই.বি.এম. পিসিতে ইন্টেল এ.এম.ডি ও সাইরাস নামক কোম্পানির চিপ ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন সময় চিপের উন্নতি সাধিত হয়। |৮০২৮৬, ৮০৩৮৬, ৮০৪৮৬ ইত্যাদি নামের চিপ বাজারে আসে। সাধারণ মানুষ সংক্ষেপে এগুলােকে ২৮৬, ৩৮৬, ৪৮৬ নামে জানতাে। ইন্টেল কোম্পানি পরবর্তী সময়ে তাদের চিপের নাম সংখ্যার বদলে পেন্টিয়াম নামে বাজারে ছাড়ে। ৮০৬৮৬ কে পেন্টিয়াম-টু তারপর পেন্টিয়াম-থ্রি এরকম। অ্যাপেলের তৈরি কম্পিউটারের বাণিজ্যিক নাম ‘ম্যাক’ (Mac)। এই প্রকারের কম্পিউটারের মটোরলা কম্পিউটারের প্রসেসর ব্যবহৃত হয়। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মটোরলা ৬৮,০০০ চিপ তৈরি করে এটি ম্যাক কম্পিউটারের ব্যবহৃত হয়। তারপর তারা ৬৮,০০০ চিপ তৈরি করে। এটি ম্যাক কম্পিউটারের ব্যবহৃত হয়।

তারপর তারা ৬৮০২০, ৬৮০৩০, ৬৮০৪০ ইত্যাদি চিপ, বাজারে আনে। অ্যাপেলে ‘পাওয়ার পিসি’ নামে একটি জনপ্রিয় চিপ ব্যবহৃত হয়। সি.পি.ইউ, হচ্ছে কম্পিউটারের প্রাণ। এই সি.পি.ইউই মূলত কম্পিউটারকে পরিচালনা করে। সফটওয়্যার থেকে যে রকম নির্দেশ পায় সিপিইউ, সে রকম
কাজ সম্পাদন করে থাকে। সি.পি.ইউ’র রয়েছে দুটি অংশ । যথা :

১। কন্ট্রোল ইউনিট এবং

২। এরিথমেটিক বা লজিক ইউনিট।

সি.পি.ইউ’র সব কাজের সমন্বয় করে কন্ট্রোল ইউনিট। কম্পিউটারের অন্য সব যন্ত্রাংশকে কোন সময় কী করতে হবে তা বলে দেয়। মূল মেমােরি এবং এরিথমেটিকালজিক ইউনিটের মধ্যে কীভাবে বৈদ্যুতিক সংকেত বিনিময় হবে তা টিক করে দেয়। এরিথমেটিক লজিক ইউনিটের কাজ হলাে অংক কষে যুক্তিযুক্ত কাজগুলাে সম্পাদন করে দেওয়া। যােগ, বিয়ােগ, গুণ, ভাগ ওইসব কাজ এরিথমেটিক ইউনিট করে থাকে। আর কাজগুলাে যৌক্তিক কিনা।

দুটি ডাটা নিয়ে একটি আরেকটির সমান কিনা ছােট অথবা বড় কিনা সেসব পরীক্ষা করে সেগুলাের পরিমাপ ও তুলনা করে থাকে। কন্ট্রোল ইউনট এবং এরিথমেটিকালজিক ইউনিটে থাকে রেজিস্টার । র্যাম থেকে ডাটা রেজিস্টারে রাখা হয় সেখানে কাজ শেষ হওয়ার পর আবার র্যামে নিয়ে রাখা হয়। সি.পি.ইড, যেভাবে কাজ করে তা হলাে :

১. প্রথমে বাইরের মেমােরি থেকে ডাটা এবং নির্দেশনা সংগ্রহ করে।

২. নিজস্ব মেমােরি সার্কিটের ডাটা এবং বাইরের ডাটা ও নির্দেশ দিয়ে গাণিতিক ও যৌক্তিক কাজগুলাে করে।

৩. এবার সেগুলাে রেখে দেয় অসিল মেমােরিতে ।

TNI RAM কম্পিউটারে স্মৃতি বলে একটা কথা আছে। আর স্মৃতি হচ্ছে এর র্যাম। এই র্যাম গঠিত হয় সিলিকন চিপ দিয়ে। কম্পিউটার দীর্ঘ সময় বিভিন্ন ধরনের ডাটা ও নির্দেশ সংগ্রহ করে। এগুলাের কোনােটি তখনই এবং কোনােটি পরে প্রয়ােজন মতাে ব্যবহারের জন্য জমা রাখার কাজটি করে র্যাম। স্মৃতির ইংরেজি শব্দটি
‘মেমােরি’। কম্পিউটারে মেমােরি দুই ধরনের। যথা :

১। প্রাইমারি মেমােরি ও

২। সেকেন্ডারি মেমােরি।

এই দু প্রকারের মেমােরিকে অন্যভাবে বলা হয় :১। ইন্টার্নাল মেমােরি বা ইন্টার্নাল স্টোরেজ, ২। এক্সানাল মেমােরি বা এক্সটার্নাল স্টোরেজ।

প্রাইমারি মেমােরি আবার দুই ধরনের। যথা :১। র্যাম এবং ২। রম । এখানে র্যাম’ হলাে র্যান্ডম এক্সেস মেমােরি’ আর ‘রম’ হলাে রিড ওনলি মেমােরি’। র্যামকে পড়া যায় এবং বদলানাে যায়। আর রমকে শুধু পড়া যায় কিন্তু বদলানাে যায় না । রমের চিপে স্থায়ীভাবে লেখা থাকে। ডাটা ও নির্দেশ নিয়ে সি.পি.ইউ, কাজ করে। এসব ডাটা ও নির্দেশ প্রথমে ব্যামে জমা হয়। এখানে ডাটা দ্রুত লেখা হয়। তারপর পাঠিয়ে দেওয়া হয় অন্যান্য স্থানে এরপর মােছা হয় এবং আবার লেখা হয়। কম্পিউটারে কাজ করার জন্য প্রয়ােজনীয় মেমােরি বা স্মৃতি তাৎক্ষণিকভাবে কম্পিউটারের ব্ল্যাম থেকে আসে। যথা :১. এস র্যাম ও ২, ডি-র্যাম। এস-ব্ল্যাম হলাে স্ট্যাটিক র্যাম আর-ভি-র্যাম হলাে ডাইনামিক র্যাম।। ডি-র্যাম একটি সার্কিটে একটি ট্রান্সস্টর এবং একটি ক্যাপাসিটর থাকে। এখানে ট্রান্সিস্টর সুইসের মতাে কাজ করে আর ক্যাপাসিটর বৈদ্যুতিক চার্জ জমা রাখে। ডি-র্যাম । ডি-ব্ল্যাম কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন এক্সটেন্ডেড় ডাটা আউট র্যাম সংক্ষেপে ‘ইডিও র্যাম’, ‘সিনক্রোনাস র্যাম’-সংক্ষেপে ‘এসডি-র্যাম’।

একটি বিটের জন্য একের অধিক ট্রান্সিস্টর থাকে এস-ঝামে। কম্পিউটার ডি র্যামের চেয়ে এস-বামে দ্রুত ডাটা পড়তে পারে। তবে অসুবিধা হলাে এস-র্যামের জন্য বেশি বিদ্যুতের প্রয়ােজন হয়। দ্রুত পড়া প্রয়ােজন ওই রকমের কাজের জন্য এস-ব্ল্যাম ব্যবহৃত হয় বেশি। ডাটা পড়া এবং লেখার ক্ষেত্রে এক্সেস টাইম একটু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক বিট ডাটা মেমােরিতে লিখতে বা মেমােরি থেকে পড়তে সি.পি.ইউর যে পরিমাণ সময় দরকার হয় তাই-ই এক্সেস টাইম। বর্তমানে ডি-র্যামের একসেস টাইম ৬০ থেকে ৮০ ন্যানাে সেকেন্ডের ভেতর এক এস-র্যামের গতি এর চেয়ে চার ৫ গুণ বেশি। মেমােরি পরিমাপ করা হয় বাইটে। ১০০ বাইটে ১ কিলােবাইট। কম্পিউটারে র্যাম বাড়ানাের একটা ব্যাপার রয়েছে। তাই জানা দরকার র্যাম কেন বাড়াতে হবে। বেশি পরিমাণ র্যাম কম্পিউটারের কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ায়। অপারেটিং সিস্টেম এবং প্রােগ্রামগুলাের আসলে প্রথমে রামে রাখা হয়। বেশি প্রােগাম চালানাের জন্য তাই বাড়তি জায়গার দরকার। যে ফাইলগুলাে নিয়ে কাজ করা হয় সেগুলাে সাধারণত র্যামে রাখা হয়। ছবি বা গ্রাফিকস ধরনের ফাইলগুলাে আকারে বড় হয় এবং এরা জায়গাও নেয় বহু। যখন ব্ল্যামে অনেক জিনিস রাখা সম্ভব হয়

তখন তা রাখা হয় হার্ড ডিস্কে। তবে ব্যবহারের সময় অবশ্যই হার্ডডিস্ক থেকে র্যামে নিতে হয় এবং পরে আবার হার্ডডিস্কে। বর্তমানে ৬৪ মেগাবাইট র্যাম এখনকার প্রােগ্রামগুলাে চালানাের জন্য অনেকটা যথেষ্ট। Parts of Mother Board – মাদার বাের্ডের একাংশ মাদারবাের্ড। Mother Board এই মাদারবাের্ডের অপর নাম সিস্টেম বাের্ড’। এটি কম্পিউটারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাদারবাের্ড হচ্ছে কম্পিউটারের প্রধান সার্কিটবাের্ডে সি.পি.ইউ, র্যাম, এক্সপানশন স্লট, পাের্ট ইত্যাদি থাকে। মাদারবাের্ডের ভিতরে একটি চিপ থাকে যার নাম চিপসেট। এর মাধ্যমে মেমােরি ইনপুট, আউটপুট, বাস ইনপুট, আউটপুট, ডি.এম.এ., আই আর কিউ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রত্যেক কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে এমন মাদারবাের্ড ক্রয় করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে আপগ্রেড করিয়ে নেওয়া যায়। ধরা যাক এখন বাের্ভ পেন্টিয়াম কম্পিউটার ক্রয় করলাে তখন তাকে মনে রাখতে হবে ভবিষ্যতে তার পিসি আপগ্রেড করার প্রয়ােজন হলে তখন এই মাদারবোের্ড সেই সুবিধা দেবে কিনা এটা অবশ্যই ভাববার বিষয়।

কম্পিউটারে বাস মূলত একটি বৈদ্যুতিক সংযােগ । সি.পি.ইউ’র ভেতর, মেইন মেমােরি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের মধ্যে বাসে সাহায্যে ডাটা স্থানান্তরিত হয়। অনেকগুলাে তারের সাহায্যে বাস তৈরি হয়। তাই সচরাচর তারের সংযােগগুলােকেই বাস’ বলা হয়ে থাকে। বাস দিয়ে একাধিক বিট ডাটা পাঠানাে যায়। ১৬ বিটের বাসে ১৬টি সমান্তরাল তার থাকে। এর ফলে একটা ডিভাইস বা যন্ত্র থেকে অন্য কোনাে ডিভাইস একযােগে ১৬ বিট বা ২ বাইট তথ্য পাঠানাে সম্ভব। বাসের মাপ সাধারণত ৮, ৩২, ৬৪, ১২৮ বিট হয়ে থাকে। বাস যত বড় হবে তত বেশি ভাটা স্থানান্তর সম্ভব হবে। ফলে কাজের গতিও বাড়বে অনেক। কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য বাসের গঠন কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। বিভিন্ন সময়ে পিসির যেমন উন্নতি সাধিত হয়েছে তেমনি এর সঙ্গে সঙ্গে বাসের মান এবং গঠনও | Parts of Mother Board – মাদার বাের্ডের একাংশ
পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথম যখন বাজারে আই.বি,এম, কম্পিউটার এলাে তখন তাতে ৮ ও ১৬ বিটের আই.এস.এ বাস ব্যবহৃত হতাে। এই প্রকারের বাসের গতি ছিল মাত্র ৮ মেগাহার্জ, যা দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৮ মেগাবাইট ডাটা স্থানান্তর করা যেত। ওই বাসের সাহায্যে ২৮৬ মেশিন চলছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ৩৮৬ মেশিনে ব্যবহৃত হয়েছে মাইক্রোচ্যানেল আর্কিটেকচার। এর পাশাপাশি আবার পিসিতে এইসা ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়াও আলাদাভাবে লােকাল বাস যেমন ভেসা ব্যবহৃত হতাে। বর্তমানের কম্পিউটারের ৬৪ বিটের পি.সি.আই, বাস ব্যবহৃত হয়।

ক্যাশ। Cash
ক্যাশ কম্পিউটারের ব্যবহৃত একটি আলাদা মেমােরি। মূল মেমােরির শাখা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। এটিকে দু ভাবে লাগানাে যেতে পারে। যে ক্যাশ সি.পি.ইউ’র সঙ্গে লাগানাে হয় সেটিকে ইন্টারন্যাল ক্যাশ’ বলে । আর যেটি আলাদাভাবে মাদারবাের্ডের সঙ্গে লাগানাে থাকে তাকে ‘এক্সটার্নাল ক্যাশ বলে। ডিস্ক ক্যাশ কিছুক্ষণের জন্য ডাটা ধরে রেখে সি.পি.ইউর কাজের ভার কমায়। ফলে অল্প সময়ের জন্য হলেও সি.পি.ইউ, মুক্ত থাকে। পেন্টিয়াম টু কম্পিউটারে ক্যাশ মেমােরি থাকে প্রসেসরের ভেতরে ক্যাশ মেমােরির ভাটা ধারণ ক্ষমতা সচরাচর ৫১২ কিলােবাইট। তবে কোনাে কোনাে প্রসেসর ১ থেকে ২ মেগা বাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সিস্টেম কুক। System Block

বাণিজ্যিকভাবে তৈরি প্রত্যেক কম্পিউটারে একটা সিস্টেম ক্লক থাকে। এটি দিয়ে কম্পিউটারের গতি মাপা হয় । সাধারণত কোয়ার্টাজের ক্রিস্টাল দিয়ে সিস্টেম ক্লক তৈরি
করা হয়। এই ক্লকের গতি প্রসেসরের গতি ওপর নির্ভর করে। এর গতির পরিমাণ। মেগাহার্জে পরিমাপ করা হয়। পেন্টিয়াম টু কম্পিউটারে ২০০ মেগাহার্জেরও বেশি গতি পাওয়া যায় । পেন্টিয়ম থ্রি’তে তাে কম করে হলেও ৪৫০ মেগাহার্জ গতি ।

রম চিপ। ROM Chip

কম্পিউটারে রম এক ধরনের আভ্যন্তরীণ মেমােরি । রম-এর পুরাে অর্থ হলাে ‘রিড অনলি মেমােরি’। রম চিপস কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন : প্রম, এ পরম, এ পরম, ইএপরম। প্রম বা প্রােগ্রামেবল রিড অনলি মেমােরিতে একবার লেখা হলে আর বদলানাে যায় না। এ পরম বা ইরেজেবল প্রোগ্রামেবল রিড অনলি মেমােরিতে লেখার পর ডাটা বিশেষ ধরনের যন্ত্র দিয়ে মােছা যায় এবং আবার লেখা যায়। আর এ লেখার কাজে অতি বেগুনি রশি ব্যবহার করা হয়। ইএ পরম বা ইলেক্টিক্যালি ইরেজেবল প্রােগ্রামেবল রিড অনলি মেমােরিতে বৈদ্যুতিক উপায়ে বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করে ডাটা ও প্রােগ্রাম লেখা যায়। এই রমকে ‘ফ্ল্যাশ রম’ও বলা হয়ে থাকে।

গ্রাফিক্স কার্ড। Grapics Card

ভিডিও সংকেত প্রক্রিয়া করার জন্য কম্পিউটারের পিসিতে গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা হয়। এটি পিসিতে একটি বাড়তি সংযােজন। গ্রাফিক্স কার্ডকে ডিসপ্লে এডাপটার বা ভিডিও কন্ট্রোলার বলা হয়। গ্রাফিক্স কার্ড পিসিআই এবং এজিপি স্লটে ব্যবহৃত হয়। মনিটরে কী পরিমাণ রং প্রদর্শন করবে তার উপর নির্ভর করে গ্রাফিক্স বাের্ডের ক্ষমতা। গ্রাফিক্স বাের্ডের রংয়ের পরিমাণ বিট দিয়ে পরিমাপ করা। হয়। বিটের পরিমাণ বেশি হলে রং দেখানাের ক্ষমতাও বেশি হয়। যেমন : ৮ বিটের বাের্ড ২৫৬টি রঙ দেখাতে পারে। ২৪ বিটের বাের্ড ১ কোটি ৬৭ লক্ষ রঙ প্রদর্শন করতে সক্ষম। এটি একটি অবাক করার মতাে কথা।

কন্ট্রোলার। Controller

কম্পিউটারে এটি এক ধরনের সার্কিট বাের্ড। প্রসেসর, পাওয়ার সাপ্লাই, ডিস্ক, ড্রাইভ, সিডি ড্রাইভ ইত্যাদির জন্য কন্ট্রোলার লাগে ডিস্কে কাজের নিয়ন্ত্রণের জন্য । ডিস্ক ও সিপিইউর মধ্যে যােগাযােগ রক্ষার কাজ করে থাকে কন্ট্রোলার।
স্টোরেজ হার্ডওয়্যার কম্পিউটার যখন কাজ করে তখন বিভিন্নভাবে তথ্য জমা করে রাখতে হয়। বার বার ব্যবহারের জন্য ডাটা ও সফটওয়্যারকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণও করতে হয়। তাই প্রয়ােজন হয় জমিয়ে রাখার মতাে জিনিসের। এ কাজটি করে স্টোরেজ কাজের সময় বা ডাটা বিনিময়ের সময় একটি এলইডি বাতি জ্বলতে থাকে। ফ্লপিটি ঢােকানাের পর ভেতরে ড্রাইভে স্প্রিং ও লিভারের কার্যক্রমের ফলে শাটারটি খুলে যায় । ড্রাইভ হেড তখন কুকির সংস্পর্শে আসে । ডাটা তখন পড়া যায় কিংবা লেখা যায়। সাধারণত একটি ড্রাইভে এরকম দুটি রিড বা রাইট হেড থাকে। ফ্লপিতে বাম দিকে একটি ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রটি বন্ধ করা যায়, খােলাও রাখা যায় । খােলা অবস্থায় এটি রাইট প্রটেক্টেড অবস্থায় থাকে। তখন ডাটা লেখা যায় না, তবে পড়া যায় অতিসহজে।
সিডি রম। cD ROM কম্পিউটারের সিডি রম বা সিডি বলতে বােঝায় এক ধরনের ডিস্ককে। কমপ্যাক্ট ডিস্ক রিড ওনলি মেমােরি’র সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে সিডি রম। সিডি চালানাের জন্য সিডি ড্রাইভ প্রয়ােজন হয়। সিডি রম পড়া হয় সিডি ড্রাইভে। সিডি ড্রাইভের সঙ্গে সাধারণত ই.আই.ডি.ই. বা স্কাজি ইন্টারফেস ব্যবহৃত হয়। সিডি’র গতি বােঝাতে সাধারণত ৩২x, ৪০x, ৫৪x উল্লেখ করা হয়। এক্স বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ১৫০ এর গুণিতক বােঝানাে হয়। প্রথম যুগের সিডির সাথে তুলনা করে এ হিসাব করা হয়। প্রথম যুগে সিডি রমের ডাটা স্থানান্তরের হার ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১৫০ কিলােবাইট । পরে ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথম দিকে সিডি রমে ছিল শুধু টেক্সট। তার সাথে যােগ হলাে ছবি, শব্দ, এনিমেশন ও ভিডিও । ওগুলাে পড়ার জন্য সিডি ড্রাইভের গতি বাড়াতে হয়েছে। তাই সিডি ড্রাইভের গতি যত বেশি হয় ততই ভালাে হয়। যেকোনাে তথ্য পাঠ বা ধারণের জন্য সিডি রমে অপটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। অপটিক্যাল প্রযুক্তিতে আলােই হচ্ছে উপাদান। এতে লেজার রশ্মিকে ডাটা পড়া লেখার কাজে ব্যবহার করা হয় । এলজার এক ধরনের আলোেক রশ্মি । এর বৈশিষ্ট্য

এই যে, এর গতিপথ সরল, এবং তা গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয় না। এর রঙ সব সময় একই রকম। এর ঘনত্ব অনেক বেশি এবং তরঙ্গগুলাে অতি সূক্ষ্ম। সিড়ি দেখতে গােলাকার। এর ব্যাস বা ডায়ামিটার ১২০ মিলিমিটার (৪.৭২ ইঞ্চি)। ভেতরে একটি গােল ছিদ্র আছে । সিডি রম ড্রাইভে শুধু পড়াই যায়, লেখা যায় না । সেটি লেখার জন্য আলাদা ড্রাইভ রয়েছে। তার নাম সিডি রাইটার’। সিডি রাইটার অবশ্য যে কোনাে কম্পিউটারে সিডি রম ড্রাইভের মতােই লাগানাে যায়। সেক্ষেত্রে ডাটা পড়াও যায়, লেখাও যায়। লেজার রশ্মির মাধ্যমে সিডি রাইটার সিডি ডিস্ক পুড়িয়ে স্থায়ী গর্ত তৈরি করে। ওগুলাের নাম পিট’। দুটি পিটের মাঝখানে থাকে ল্যান্ড। সিডি ড্রাইভ এগুলাে পড়তে পারে। ডাটা লেখার সময় সিড়িতে গর্ত করা হয়। এ গর্তের নাম পিট। পিটগুলাের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ০.২৫ মাইক্রন। এক মাইক্রন এক মিটারের ১০ লক্ষ ভাগের ১ ভাগের সমান। এক একটি সিডিতে ওরকম কয়েক বিলিয়ন পিট থাকে। গর্ত থেকে প্রতিফলিত আলাে উচ্চ বিট ১ রূপে এবং ল্যান্ড থেকে প্রতিফলিত আলাে নিম্ন বিট ০ রূপে চিহ্নিত করা হয় । সিডির দুটি পিঠ। একপিঠে থাকে লেবেল, অন্য পিঠটি উজ্জ্বল। তা থেকে রঙ ধনুর আলাে বিচ্ছুরিত হয়। প্রতিটি সিডিতে আছে তিনটি স্তর । প্রথম স্তরে আছে প্লাস্টিকের পরত। মাঝখানের স্তরে থাকে এলুমিনিয়ামের কিংবা রূপার পরত। ওই স্তরেই ডাটা পুড়িয়ে সৃষ্টি করা হয় পিট ও ল্যান্ড। এই স্তরে আলাে প্রতিফলিত হয়। তার উপরের স্তরে থাকে এক্সাইলিরেসিনের একটি স্তর । এটি যান্ত্রিক ক্ষয়-ক্ষতি নিবারণ করে। যে পিট থেকে আলাে প্রতিফলিত হয় সে পিঠ দিয়েই ডাটা পড়ার কাজটি হয়। সিডি ড্রাইভে সিড়ি এমনভাবে ঢােকাতে হয় যাতে লেজার আর এলুমিনিয়ামেব স্তর মুখােমুখি থাকে। কিছু কিছু সিডিতে ডাটা বার বার মােছা ও লেখা যায়। এ ধরনের রেকর্ডেবল সিডিতে চারটি স্তর থাকে। তার একটিতে থাকে। ফটোসেনসিটিভ পদার্থ। তখন পিঠ সৃষ্টির স্তরটিতে ডাটা ধারণের জন্য এলুমিনিয়ামের বদলে খাটি স্বর্ণ ব্যবহৃত হয়। সিডিতে ডাটা রাখা হয়। ধারাবাহিকভাবে। সিডির ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি। এতে ৬৫০ মেগাবাইটে এ ৪ সাইজের কাগজের ২৫০ হাজার পৃষ্ঠা টেক্সট রাখা যায়। রাখা যায় অসংখ্য ছবি। রাখা যায় ৭৪ মিনিটের ভিডিও। তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টেপ ড্রাইভ। Tape Drive একথা সত্য যে, কম্পিউটার কাজের ক্ষেত্রে যত পারদর্শিতাই দেখাক না কেন, তা সর্বাংশে নির্ভরযােগ্য নয়। বা তার ওপর নির্ভর করলে ব্যবহারকারী বহু ধরনের বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে পারেন। বহু কষ্টে, বহু দিনের পরিশ্রমের পর তৈরি করা ডাটা এক মুহুর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। হারিয়ে যেতে পারে চিরদিনের জন্য । তাই কম্পিউটারে তৈরি ডাটা বা ফাইলের ব্যাক আপ রাখতে হয়। ডাটা ব্যকি আপের জন্য ম্যাগনেটিক টেপ বহু ব্যবহৃত মাধ্যম। এতে রয়েছে ম্যাগনেটিক
মেমােরি। এতে ব্যবহৃত হয় বিশেষ ধরনের কার্টিজ। ওগুলাের ধারণ ক্ষমতা ৫ থেকে ৮ গিগাবাইট বা তারও অনেক বেশি হয়ে থাকে। জাজ ডিস্ক। Jug Disk কম্পিউটারে কাজের পর তার সংরক্ষণ ছাড়াও পরিবহনের প্রয়ােজন মাঝে মাঝেই হয়। সাধারণ ফ্লপি ডিস্কের ধারণ ক্ষমতা এতই কম যে, বিশেষ কাজের জন্য সেগুলাে একেবারেই অনুপযুক্ত। একটি সাধারণ মানের ইমেজ ফাইলও তাতে ধারণ করা সম্ভব হয় না। বড় আকারের ব্যাক আপ রাখার জন্য জাজ ডিস্ক বা জিপ ডিস্ক ব্যবহার করা যায়। জাজ ডিস্কের নির্মাতা আইওমেগা নামের প্রতিষ্ঠান। এ ডিস্কটি অপসারণযােগ্য। একটি ডিস্কে ১ গিগাবাইট ডাটা ধারণ করা যায়। এটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৪ ইঞ্চি এবং এটি আধ ইঞ্চি পুরু। এটি হার্ড ডিস্কের মতােই ব্যবহার করা সম্ভব। কম্পিউটারে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

জিপ ডিস্ক। Gip Disk
এটির নির্মাতা আইওমেগা নামক প্রতিষ্ঠান। এতে ১২০ মেগাবাইট পর্যন্ত ডাটা ধারণ করা যায়। এটি দেখতে সাধারণ ফ্লপি ডিস্কের চেয়ে সামান্য বড়। এতে ফ্লপিও পড়া যায়। এটি চালানাের জন্য জিপ ড্রাইভ কার ।
ডিভিডি। DVD কম্পিউটারে ডিভিডি আরেক ধরনের স্টোরেজ হার্ডওয়্যার । ডিভিডি হচ্ছে ডিজিটাল ভার্সেটাইল ডিস্ক-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। হলিউডের চিত্র নির্মাতাদের আগ্রহ ও পৃষ্ঠপােষকতার ফলে এ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার হয়েছে।

কম্পিউটারের অন্যান্য অংশ সম্পর্কে জানতে সাথে থাকুন|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *