Computerইন্টারনেট

উইন্ডোজে স্লো ইন্টারনেট ফিক্স করার ১০ টি উপায়

উইন্ডোজে স্লো ইন্টারনেট ফিক্স করুন

আমাদের দেশে যারা ডেক্সটপে ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন, তারা অনেকসময়ই একটি কমন প্রবলেম ফেস করে থাকেন, যা হচ্ছে স্লো ইন্টারনেট। কাজের সময় ইন্টারনেট স্পিড স্লো হলে সত্যিই খুবই বিরক্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। তবে আমাদের দেশে সাধারনভাবেই ইন্টারনেট স্ট্যাবল নয়। তাই স্লো ইন্টারনেটের সমস্যায় পড়লে অধিকাংশ সময়ই এন্ড ইউজার হিসেবে আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া তেমন কিছু করার থাকেনা। তবে অনেকসময় স্লো ইন্টারনেটের দোষ আপনার আইএসপি এর হয়না।

অনেকসময় আপনার ইউজ করা ডিভাইসগুলোর হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারজনিত সমস্যার কারণেও আপনি স্লো ইন্টারনেট স্পিড পেতে পারেন, যা ফিক্স করতে হলে আপনার নিজেকেই ফিক্স করতে হবে। আজকে উইন্ডোজ ইউজারদের জন্য স্লো ইন্টারনেট স্পিড ফিক্স করার ১০ টি উপায় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি যা হয়তো আপনার ইন্টারনেট স্পিডের সমস্যায় কাজে লাগবে, যদি সমস্যাটি আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের না হয়ে থাকেন। নিচের এই ১০ টি স্টেপ নেওয়ার পরেও যদি আপনি স্লো ইন্টারনেট স্পিড ফেস করেন, তাহলে আপনি অনেকটা নিশ্চিত হতে পারবেন যে ইন্টারনেটের সমস্যাটি আপনার ডিভাইসের নয়, বরং আপনার আইএসপি-এর।

এই আর্টিকেলের বিষয়বস্তু সমূহ

কম্পিউটার রিস্টার্ট করা

শুনতে কিছুটা হাস্যকর সমাধান মনে হলেও উইন্ডোজের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রবলেমের এই কমন সলুশনটি অধিকাংশ সময়ই ম্যাজিকের মত কাজ করে। আপনি ধরেই নিতে পারেন যে, উইন্ডোজ ডেক্সটপ ব্যবহার করার সময় আপনি যত ধরনের প্রবলেম সফটওয়্যার প্রবলেম ফেস করবেন, এর মধ্যে ৮০% প্রবলেমই আপনি শুধুমাত্র আপনার ডিভাইসটি একবার রিস্টার্ট করেই ফিক্স করে ফেলতে পারবেন। এটা স্লো ইন্টারনেট ফিক্স করতেও কাজ করে। যদি ডেক্সটপের কোন সফটওয়্যারজনিত সমস্যার কারণে আপনি স্লো স্পিড ফেস করেন, অন্য কোনো ঝামেলা বা ট্রাবলশুটিং এর মধ্যে যাওয়ার আগে আপনার ডিভাইস একবার রিস্টার্ট করলেই তা ঠিক হয়ে যেতে পারে।

রাউটার রিস্টার্ট করা

আপনারা হয়তো এই ফিক্সটির সাথে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত। কারণ, আমাদের দেশে যেকোনো ইন্টারনেট প্রবলেমের জন্য আইএসপি এর সাপোর্টে কথা বললে তারা সবক্ষেত্রেই এই রাউটার রিস্টার্ট করতেই বলে থাকে। যদিও সবসময় এটা কাজ করে না, তবে অনেকসময় স্লো ইন্টারনেট ফিক্স করার জন্য এটাও কাজের সল্যুশন হতে পারে। কারণ, অনেকসময় যদি আপনার রাউটারটি যথেষ্ট পাওয়ারফুল না হয় এবং একসাথে অনেক বেশি ডিভাইস রাউটারে কানেক্টেড থাকে, তখন রাউটার এই এক্সট্রা লোড হ্যান্ডেল করতে পারেনা এবং রাউটারের ফ্রেমওয়ার্ক হ্যাং করে। এর ফলে ইন্টারনেট স্লো করতে পারে বা ইন্টারনেট সম্পূর্ণ ডিসকানেক্টও হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রাউটার রিস্টার্ট করেই আপনি এই প্রবলেমের সমাধান করতে পারেন।

পিং স্ট্যাটাস চেক করা

Ping উইন্ডোজের একটি কমান্ড লাইন ইউটিলিটি যা মূলত টেস্ট করে যে আপনার ডিভাইসটি আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের থেকে প্রোপার রেসপন্স পাচ্ছে কিনা এবং রেসপন্স পেতে কত সময় লাগছে। আপনি এটির সাহায্যে বিভিন্ন পাবলিক ডিএনএসের সাথে আপনার ডিভাইস পিং করে দেখতে পারবেন যে আপনা ইন্টারনেটে কতটা লেটেন্সি আছে এবং কতটা প্যাকেট লস ফেস করতে হচ্ছে আপনাকে। পিং চেক করার জন্য  Win+R চেপে Run উইন্ডো ওপেন করুন। এরপর নিচের কম্যান্ডটি লিখে ইন্টার প্রেস করুন।

ping 8.8.8.8 -t

যদি আপনি টার্মিনালে পরপর অনেকগুলো রেসপন্স দেখতে পান, Ctrl+Pause Break বাটন চেপে আপনি প্যাকেট লস চেক করতে পারবেন। এটা কোন ফিক্স নয়, তবে এটা আপনার প্রবলেম জানতে কিছুটা হেল্প করবে। টার্মিনালে দেখানো লেটেন্সি এবং প্যাকেট লসের ভ্যালুগুলো মনে রেখে সেগুলো আপনি আইএসপি-তে ইন্টারনেট স্পিডের ব্যাপারে কমপ্লেইন করার সময় তাদেরকে জানাতে পারেন।

আলাদা ইন্টারনেট সোর্স ব্যাবহার করা

আপনি যদি ডেক্সটপে কোন ওয়াইফাই অ্যাডাপ্টর ব্যাবহার করে আপনার রাউটারের সাথে ওয়াইফাই কানেক্ট করে ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন, সেক্ষেত্রে অনেকসময় স্লো ইন্টারনেট আপনার ইউজ করা ওয়াইফাই অ্যাডাপ্টর বা এর ড্রাইভারের প্রবলেমও হতে পারে।

আপনার মাদারবোর্ডে ডেডিকেটেড ওয়াইফাই কার্ড থাকলে সেটা আলাদা কথা, তবে যদি আপনি এক্সটার্নাল ওয়াইফাই অ্যাডাপ্টর ব্যাবহার করে ইন্টারনেট কানেকশন নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা বাদ দিয়ে সরাসরি CAT-6 ইথারনেট ক্যাবল ব্যাবহার করে আপনার রাউটার থেকে ওয়্যারড কানেকশন নিয়ে ইন্টারনেট ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। অনেকসময় শুধুমাত্র ওয়্যারলেস থেকে ওয়্যারড কানেকশনে সুইচ করলেই ইন্টারনেট স্পিডের ভালো পরিমান পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়।

উইন্ডোজ আপডেট পজ করা

ইউজারের সবথেকে ব্যাস্ততার মুহূর্তে আপডেট ডাউনলোড এবং ইন্সটল করার জন্য উইন্ডোজ ১০ এর ভালোই দুর্নাম রয়েছে। আপনি যখন ইন্টারনেট ব্যাবহার করছেন অন্য কাজে, সেই সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে উইন্ডোজ আপডেট ডাউনলোড করতে থাকার কারণেও অনেকসময় ইন্টারনেট স্পিড স্লো হয়ে থাকে। একইসময় আপডেট ডাউনলোড করার পাশাপাশি অন্য কোন কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করলে অবশ্যই আপনি স্লো ইন্টারনেট ফেস করবেন।

যদিও আপডেট একেবারে ডিজেবল করে দেওয়া কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়, আপনি চাইলে আপনার যখন ইন্টারনেটে কোন ইম্পরট্যান্ট কাজ করার দরকার হচ্ছে, সেইটুকু সময়ের জন্য উইন্ডোজ আপডেট পজ করে রাখতে পারেন। তাহলে অন্তত আপনার কাজের সময় উইন্ডোজ আপডেটের কারণে আপনার ইন্টারনেট স্লো হবেনা। এটা করার জন্য স্টার্ট মেনু থেকে Settings > Update and Security > Windows Update > Pause Update for 7 Days ক্লিক করুন। তবে বর্তমানে ৭ দিনের বেশি সময়ের জন্য আপডেট পজ করার কোন অফিসিয়াল অপশন নেই।

ট্রাবলশুট করুন

যদিও যেকোনো সমস্যাতেই উইন্ডোজ এর অফিসিয়াল ট্রাবলশুটার তেমন কোন কাজেই আসেনা, তবে একবার ট্রাই করতে তো কোন ক্ষতি নেই। যেই ২% সময় উইন্ডোজ ট্রাবলশুটার কাজ করে, হতে পারে আপনি ভাগ্যবান হলে এর মধ্যে আপনিও পড়ে যেতে পারেন। তাই স্লো ইন্টারনেটের কারণে আইএসপিকে কমপ্লেইন করার আগে কয়েক মিনিট সময় ব্যায় করে উইন্ডোজ ট্রাবলশুটার ব্যাবহার করে দেখতেই পারেন যে কোন অ্যাডিশনাল এরর বা ইনফরমেশন পাওয়া যায় কিনা। ট্রাবলশুট করার জন্য চলে যান Settings > Update and Security > Troubleshoot > Additional Troubleshooter। এখানে আপনি পরপর কয়েকটি ট্রাবলশুটার দেখতে পাবেন। নিচের এই তিনটি ট্রাবলশুটার পরপর রান করুন।

  • Internet Connections
  • Network Adapter
  • Incoming Connection

আপনি ট্রাবলশুটারের অন-স্ক্রিন কমান্ডগুলো পরপর ফলো করলেই ট্রাবলশুট করতে পারবেন। যদিও সত্যি কথা বলতে, এটি থেকে তেমন কোন সল্যুশন পাওয়ার আশা না রাখাই ভালো।

ডিএনএস চেঞ্জ করুন

অনেকসময় আপনার স্লো ইন্টারনেট প্রবলেমের জন্য দায়ী হতে পারে আপনি যে ডিএনএস সার্ভার ব্যবহার করে ইন্টারনেট ইউজ করছেন সেটি। আপনি যদি আপনার আইএসপি এর দেওয়া ডিএনএস সার্ভার ব্যবহার করেন, তাহলে স্লো ডিএনএসের কারণে স্লো ইন্টারনেট বা বেশি লেটেন্সি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

যদিও নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যায় না, তবে আইএসপিএর ডিফল্ট ডিএনএস সার্ভার ব্যবহার না করে কোন একটি ভালো পাবলিক ডিএনএস সার্ভার ব্যবহার করা সবসময়ই ভালো, যদি না আপনি অনেক বেশি অনলাইন  গেমিং করেন। ডিএনএস কি এবং কেন ডিএনএস চেঞ্জ করা দরকার, আর কিভাবেই বা ডিফল্ট ডিএনএস চেঞ্জ করবেন, সে ব্যাপারে বিস্তারিত টিউটোরিয়ালের জন্য এই আর্টিকেলটি পড়ে নিতে পারেন।

নেটওয়ার্ড অ্যাডাপ্টার ড্রাইভার আপডেট করুন

আপনি যদি ডেস্কটপে অনেক পুরনো ভার্সনের ড্রাইভার ব্যাবহার করেন, আপনার স্লো ইন্টারনেট স্পিডের জন্য সেটাও দায়ী হতে পারে। সবসময় আপনার নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার লেটেস্ট ভার্সনে আপডেটেড রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার ড্রাইভার আপডেট করতে নিচের স্টেপগুলো ফলো করুন।

Win+X  চেপে Device Manager ওপেন করুন এবং সেখান থেকে Network Adapters ট্যাবটি এক্সপ্যান্ড করুন।

আপনার অ্যাডাপ্টার ড্রাইভারটির ওপরে রাইট ক্লিক করুন। কন্টেক্সট মেনু থেকে Update Driver অপশনটি সিলেক্ট করুন।

এবার যে উইন্ডোটি ওপেন হবে, সেখান থেকে Search Automatically for Drivers সিলেক্ট করুন। আর যদি আপনার কাছে অলরেডি লেটেস্ট ভার্সনের ফাইল থাকে, তাহলে এর নিচের অপশনটি সিলেক্ট করে ম্যানুয়ালি ড্রাইভারটি আপডেট করে নিন।

আপডেটের পড়ে একবার আপনার ডিভাইসটি রিস্টার্ট করে নিতে পারেন।

লিমিট রিজার্ভেবল ব্যান্ডউইথ চেক করুন

আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না যে উইন্ডোজে অনেকসময় কিছু প্রিডিফাইন্ড রিজার্ভেবল ব্যান্ডউইথ লিমিটেশন থাকতে পারে, যার কারণেও আপনার ইন্টারনেট স্লো কাজ করতে পারে। এই লিমিটটি আপনার উইন্ডোজে সেট করা আছে কিনা তা চেক করে দেখতে পারেন এবং সেট করা থাকলে তা রিমুভ করেও দিতে পারেন। নিচের স্টেপগুলো ফলো করুন-

Win+R প্রেস করে উইন্ডোজের Run প্রোগ্রামটি ওপেন করুন এবং এখানে gpedit.msc লিখে ইন্টার প্রেস করুন।

লিস্ট থেকে নিচে দেওয়া প্যাথটি লক্ষ্য করুন এবং এই প্যাথটিতে ন্যাভিগেট করুন।

Computer Configuration > Administrative Templates > Network > QoS Packet Scheduler

এবার এখান থেকে Limit reservable bandwidth এই অপশনটিতে ডাবল ক্লিক করুন। এখান থেকে Not Configured অপশনটি সিলেক্ট করে দিন এবং OK প্রেস করে আপনার চেঞ্জ সেভ করে বেরিয়ে আসুন।


ওপরে মেনশন করা এই দশটি স্টেপ ফলো করলেই আপনার স্লো ইন্টারনেট প্রবলেম ঠিক হয়ে যাবে এমনটা নয়, যদি ঠিক নাও হয়, এগুলোর ফলে আপনি অন্তত নিশ্চিত হতে পারবেন যে ইন্টারনেট প্রবলেমটি আপনার বা আপনার ডিভাইসের নাকি আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের। এটা নিশ্চিত হওয়ার পরে সেই অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া আপনার জন্য অনেকটা সহজ হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button