কম্পিউটার

কিভাবে কম্পিউটারের দক্ষতা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করবেন?

বর্তমান বাংলাদেশের আইটির অন্যতম লক্ষ্য হলো, সবার ঘরে ঘরে কম্পিউটার পৌছে দেওয়া এবং এর সহজলোভ্যতা ও ব্যবহার বৃদ্ধি। তাই কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরী। উপরোক্ত বিষয় চিন্তা করে আমার এই ক্ষুদ্র টিটোরিয়াল। আমি এই টিটোরিয়ালে বিস্তারিত লিখার চেষ্টা করেছি।

আশা করি এই টিপসগুলো নিয়মিত ও যথাযথ ব্যবহার করে আপনি উপকৃত হবেন। বর্তমান সময়ে যত কর্মকান্ড সম্পাদক হয়ে আসছে তার সবই কম্পিউটার ভিত্তিক। তাই সঠিকভাবে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ এবং এর ব্যবহার আবশ্যক। কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু দিক লক্ষ্য রাখতে হয়। এর মধ্যে প্রথমত কম্পিউটার পরিচালনা। এই পরিচালনায় আপনার কম্পিউটারের পারফরমেন্স অনেকখানি নির্ভর করে। নিম্নে কম্পিউটার ব্যবহারের কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করা হলো।

যা যা করা উচিত

  • ভালো একটি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা। যেমনঃ AVG, Symantec or eScan এবং নিয়মিত আপডেট এবং স্ক্যান করা।
  • স্পাইওয়্যার, ম্যালওয়্যার স্ক্যান সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা। যেমনঃ Spybot.
  • হার্ডডিস্ককে ন্যূনতম ২৫ শতাংশ খালি রাখতে হবে।
  • ইন্টারনেট থেকে উইন্ডোজ আপডেট ডাউনলোড করে ইন্সটল করা।
  • সপ্তাহে অন্তত ১ বার Check Disk করা। Check Disk এর মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারের পারফরমেন্স অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। এতে দুই ধরনের স্ক্যান করার অপশন রয়েছে।
(-) Automatically fix the system errors.
(-) Scan for and attempt recovery of bad sectors.
উভয় অপশনে কম্পিউটার স্কেন করতে হবে। Check Disk দিয়ে কম্পিউটারের সিস্টেম ফাইলসহ বিভিন্ন বেড সেক্টর স্ক্যান করে এবং এতে কোন errors থাকলে তা রিকভার করে থাকে। নিম্নে Automatically fix the system errors এবং Scan for and attempt recovery of bad sectors নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

(1) Automatically fix the system errors: এ অপশনে টিক চিহ্ন দিয়ে Start ক্লিক করুন। লক্ষ্য করুন এই বার্তাটি আসবে।

এই ডায়ালগ বক্সটিতে কি লিখা আছে, তা ভালো করে লক্ষ্য করুন। Yes করুন। এরপর আপনার কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন এবং সঠিক নিয়মে কম্পিউটার চালু করুন। লক্ষ্য করবেন যে, কম্পিউটার চালু হবার সময় সিডিউল স্ক্যান করবে এটাই ১ম অপশন Automatically fix the system errors এর স্ক্যান।

(2) Scam for and attempt recovery of bad sectors: এ অপশন টিক চিহ্ন দিয়ে Start ক্লিক করুন। এই স্ক্যানের মাধ্যমে কম্পিউটার আপনার bad sectors recovery কাজ করবে।
বিঃদ্রঃ- আপনার ড্রাইভে যদি কোন প্রকার সমস্যা থাকে, তাহলে Error দিতে পারে। এই জন্য ১ম অপশনটি Automatically fix the system errors নির্বাচন করে স্ক্যান করুন।

  • সপ্তাহে অন্তত ১ বার Disk Cleanup করুন।
  • বিভিন্ন টিপস, প্রবন্ধ জানা স্বত্বেও কম্পিউটারে ভাইরাস/স্পাইওয়্যার প্রবেশ করেই। এর ফলে Scan করে ভাইরাস clean করা যায় ঠিকই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বেশ কিছু সিস্টেম ফাইল হারাতে হয়। তাই মাঝে মধ্যে উইন্ডোজ রিপেয়ার করতে হবে। এই সমস্যা এড়ানো জন্য আপনাকে sfc করা উচিত। sfc এর কাজ ইনফেক্টেড ডেটাগুলো ডিলেট করে নতুন সিস্টেম ফাইল কপি করা। এতে কম্পিউটারের পারপরমেন্স অনেক খানি বেড়ে যায়। এ জন্য প্রথমে সিডি ড্রাইভে XP ডিস্ক প্রবেশ করান এবং Run ক্লিক করে cmd লিখে OK করুন। এরপর টাইপ করুন sfc/scan now। এতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগবে।
  • স্টার্টআপ থেকে অকেজো প্রােগ্রামগুলো বন্ধ করে দেওয়া।
  • স্বয়ংক্রিয় অপশনগুলো বন্ধ করে দিন। যেমনঃ উইন্ডোজ আপডেট, এন্টিভাইরাস আপডেট, উইন্ডোজ মিডিয়া পেয়ার আপডেট, অন্যান্য প্রোগ্রামগুলোর স্বয়ংক্রিয় আপডেট। এর জন্য Autoruns প্রোগ্রামটি ব্যবহার করতে পারেন।
  • Windows Component থেকে অব্যহৃত প্রোগ্রামগুলো বন্ধ করে দেয়া।
  • উইন্ডোজ পারফরমেন্স থেকে অব্যবহৃত অপশনগুলো বাদ দিয়ে ব্যবহার করা। System Properties→Advance Performance (Setting)→Adjust for best performance. এই অপশন থেকে শেষ তিনটি রেখে উপরের সবগুলাে তুলে দিতে পারেন। এতে আপনার কম্পিউটারে গতি অনেকাংশে বেড়ে যাবে।
  • প্রোগ্রাম আনইন্সটল করার জন্য ভালো একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করা। যেমনঃ Revo Uninstaller
  • কম ব্যবহৃত প্রােগ্রামগুলােকে Portable করে ব্যবহার করুন।
  • নিয়মিত Temp, History, Temporary, Recent ফাইল ডিলেট করা।
  1. c:/windows/temp
  2. c:/Document and Settings/(Your User)/recent
  3. c:/Document and Settings/(Your User)/local settings/temp
  4. c:/Document and Settings/(Your User)/local settings/history
  5. c:/Document and Settings/(Your User)/local settings/temporary
উপর্যুক্ত ফোন্ডারের ভেতর যে ফাইলগুলো আছে, সব মুছে ফেলুন । তাছাড়া, *.htt, *.tmp ফরমেটের ফাইলগুলো ডিলিট করে ফেলুন। Search-All Files and Folders-type (*.htt, *.tmp)-Enter . সার্চের মাধ্যমে যে ফাইলগুলো পাবেন, সবগুলো ডিলিট করে ফেলুন।
  • কম্পিউটার যেন সরাসরি বন্ধ না হয় সে জন্য UPS ব্যবহার করা।
  • সিস্টেম ড্রাইভ যতটুকু সম্ভব খালি রাখার চেষ্টা করুন।
  • বছরে অন্তত ৪ বার ডিফ্রেগমেন্ট করুন।
  • উইন্ডােজ এক্সপির জন্য NTFS ফরমেট ব্যবহার করুন।
  • বছরে অন্তত ৩ বার prefects ফোল্ডার খালি করুন। c:windowsprefects
  • উইন্ডােজ রেজিষ্ট্রি থেকে অকেজো প্রােগ্রামগুলাে বন্ধ করে দিন। তবে অভিজ্ঞ কম্পিউটার ব্যবহারকারী ছাড়া উইন্ডােজ রেজিষ্ট্রি মুডিফাই করবে না। এতে হিতবিপরীত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
  • উইন্ডােজ এক্সপির জন্য অন্তত ৫১২ মেগাবাইটের র‌্যাম ব্যবহার করুন।
  • কম্পিউটারকে ধুলাে-বালি থেকে মুক্ত রাখুন এবং নিয়মিত যত্ন নিন।
  • বায়ােস থেকে অপ্রয়ােজনীয় অপশনগুলাে ডিজেবল করে দিন। অনাভিজ্ঞ হলে বায়ােস সেটিং করবেন।
  • C:WINDOWSsystem321054, এ ফোল্ডারে কোন ডেটা থাকলে মুছে ফেলুন।
  • উইভােজ সার্ভিস থেকে অপ্রয়ােজনীয় সার্ভিসগুলো ডিজেবল করন। অভিজ্ঞ না হলে ব্যবহার করবেন না।
  • পেনড্রাইভ ব্যবহারের জন্য উইন্ডােজ এক্সপােরার ব্যবহার করুন।
  • সার্চ অপশন ডিজেবল করে রাখতে পারেন। যদি আপনি ব্যবহার না করে থাকেন।
যা যা করা উচিত নয়

  • স্ক্রিনসেভার/থিম/ডেস্কটপ ওয়ালপেপার Stretch করে ব্যবহার না করা।
  • অতিরিক্ত/অপ্রয়ােজনীয়/ট্রায়াল প্রােগ্রাম ইন্সটল না করা। প্রয়ােজনে পােরটেবল সফটওয়্যার ব্যবহার করা।
  • অতিরিক্ত ফন্ট ইন্সটল না করা। প্রয়ােজনে বাছাই করা ইন্সটল করুন।
  • এক সাথে একাধিক প্রােগ্রাম চালু না করা । যেমনঃ ফটোসােপ, ইলেসট্রেটর, এ্যানিমেশন এবং অন্যান্য প্রােগ্রাম একসাথে চালু না করা।
  • অতিরিক্ত ইউজার একাউন্ট তৈরী না করা এবং ডেক্সটপে অপ্রয়ােজনীয় ফাইল, ফোল্ডার, আইকন সেভ না করা।
  • অব্যবহৃত হার্ডওয়্যার কম্পিউটারে সংযুক্ত না করা। উক্ত হার্ডওয়্যারের ড্রাইভার/সফটওয়্যার ইন্সটল না করা।
  • ফোল্ডার View কে Icon আকারে ব্যবহার করুন এবং ফোল্ডারের ভেতর মাল্টিব্যাকগ্রাউন্ড না করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button